ঢাকা: জামায়াতে ইসলামী সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। একই সঙ্গে দলটির নাম থেকে ‘ইসলাম’ শব্দটি বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কুষ্টিয়ায় জামায়াত-শিবিরের হামলায় আহত সোহানুর রহমান সোহানকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল হক নুর বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট হবে।’ জামায়াত ‘ইসলামের লেবাস’ ব্যবহার করে ইসলামের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর প্রত্যাশা ছিল, ফ্যাসিবাদের আমলে যারা মজলুম ছিলেন, তারা সবাই মিলে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণ করবেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, জামায়াত ইসলামী ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ৬ মাসের মধ্যেই তারা সরকারকে নিয়ে বিরক্তিকর বক্তব্য দেওয়া শুরু করেছে।
জামায়াতের নৈতিক চরিত্রের অবক্ষয় হয়েছে দাবি করে নুর বলেন, কুষ্টিয়ার সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা আমির হামজা এবং সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এর বড় উদাহরণ।
আমির হামজার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগ তুলে নুরুল হক নুর বলেন, তিনি প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়েও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। এসব বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড জামায়াত সমর্থন করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নুর বলেন, ‘আমির হামজার এসব নোংরা ও ভণ্ডামিপূর্ণ কথাবার্তা জামায়াত সমর্থন করছে। সাতক্ষীরার এমপি নজরুল ইসলামের কর্মকাণ্ডের পরও জামায়াত যদি নিজেদের ইসলামী দল হিসেবে দাবি করে, তাহলে সেটি ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’
তিনি বলেন, ‘আমি বলব, তারা জামায়াতে ইসলামী থেকে ইসলামী নামটি বাদ দিক। কারণ তারা ইসলামের নাম ব্যবহার করে ইসলামেরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে।’
নুরুল হক নুর বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যার কারণে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হয়েছে। ৭১ সালে এর চেয়েও ভয়াবহ গণহত্যা, লুটপাট ও গণধর্ষণ হয়েছে। সেই ৭১-এর গণহত্যা, লুটপাট ও গণধর্ষণের কারণে জামায়াত-শিবিরও নিষিদ্ধ হওয়া দরকার। এ বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করার কথাও জানান তিনি।
জামায়াতের অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে নুর বলেন, ‘জামায়াতের অতীত ইতিহাস রগ কাটার ইতিহাস, ধর্ষণের ইতিহাস, দখলদারির ইতিহাস।’ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি অফিস-আদালত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দখলবাজি ও চাঁদাবাজি চালানোর অভিযোগও করেন তিনি।
জামায়াতের কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বলায় কুষ্টিয়ায় তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, ‘এগুলো নিয়ে কথা বলায় আজকে এই জামায়াত-শিবির তাদের শক্তি জানান দিতে কুষ্টিয়ায় তাদের উন্মাদ সংসদ সদস্যকে দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা করেছে।’
তিনি দাবি করেন, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের সাধারণ সম্পাদক মহাদিসকে কুপিয়ে তার পায়ের দুটি রগ কেটে দেওয়া হয়েছে। কলেজ শাখার সভাপতি সোহানুর রহমান সোহানকে বেসবল দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে এবং তার নাকের হাড় ভেঙে যাওয়ায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।
নুরুল হক নুর আরও বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে জামায়াত-শিবির মজলুম থাকলেও গত ছয় মাসে তাদের কর্মকাণ্ডে তারা ‘জালেম সংগঠনে’ পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই উগ্রবাদী, ধর্মীয় বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী জামায়াত-শিবির গোষ্ঠীকে সর্বস্তরের জনগণের এখন থেকেই প্রতিরোধ ও প্রতিহত করতে হবে।’
জামায়াত-শিবিরকে ‘ভাইরাসের মতো’ আখ্যা দিয়ে নুর বলেন, তাদের কোনো সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে তারা দেশ ও জাতির জন্য ভয়ংকর বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।