ঢাকা: একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার মূল শক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা যতদিন জাতি স্মরণ করবে, ততদিন কোনো অপশক্তি দেশকে বিভাজিত করতে পারবে না। চব্বিশের আন্দোলনে ছাত্রজনতা সেটিই প্রমাণ করেছে।
সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
এদিন মহান মুক্তিযুদ্ধে গৌরবোজ্জ্বল ধানুয়া কামালপুরের যুদ্ধের স্মৃতিচারণ, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। জামালপুর সমিতি, ঢাকার আয়োজনে সেখানে সম্মাননা দেওয়া হয় দুই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ মুক্তিযুদ্ধের সময়কার স্মৃতিচারণ করেন। কামালপুরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার এবং জাতির সংকটে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মতো এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান।
অনুষ্ঠানে জামালপুর সমিতির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, একাত্তরের গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল জামালপুরে, যেখানে বিপুলসংখ্যক স্থানীয় অধিবাসী যোগ দিয়ে একে জনযুদ্ধে রূপ দিয়ে দেশের সর্বপ্রথম হানাদারমুক্ত অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত করেছিল।

সোমবার ঢাকার বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ছবি: জামালপুর সমিতি, ঢাকা
ডা. রাসকিন বলেন, সেই যুদ্ধের জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের সবাইকে সম্মান জানাবে জামালপুর সমিতি। পাশাপাশি এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চব্বিশের মুক্তিযুদ্ধে জামালপুরে শহিদ হয়েছেন ১৭ জন। এসব শহিদের পরিবারকে সমিতির পক্ষ থেকে অনুদান দেওয়া হবে কিংবা শহিদ পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের নিয়ে যেসব সংগঠন বা সমিতি রয়েছে সেগুলোর পিকনিক বা সংবর্ধনার বাইরে এলাকাবাসীর জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানব উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের জন্য এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলে অভিমত প্রকাশ করেন ডা. রাসকিন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ১৯৭১ সালে এক গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ সংঘটিত হয় বর্তমানে জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুরে। জেড ফোর্সের অধীন প্রথম বেঙ্গল রেজিমেন্টের সঙ্গে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ৯৩ ব্রিগেডের অধীন ৩১ বালুচ রেজিমেন্টের যুদ্ধ হয়। ৩১ জুলাই থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ এ যুদ্ধ শেষে দেশের প্রথম এলাকা হিসেবে হানাদারমুক্ত হয় এই অঞ্চল।
সমিতির নির্বাহী সভাপতি হাফিজুর রহমান ময়নার সভাপতিত্বে কামালপুরের যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন এই যুদ্ধে সরাসরি অংশ গ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন ও মুক্তিযোদ্ধা মো. আবু তাহের সরকার।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সমিতির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান, মো. সুজাত আলী, অধ্যাপক ডা. আব্দুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক রাজু তালুকদার, হুমায়ুন কবীর আকন্দ, যুবনেতা আশরাফ ফারুক হীরা ও প্রবাসী নেতা মো. জাকির হোসেন।
আলোচনা শেষে দেশাত্মবোধক কবিতা ও গান পরিবেশিত হয়।