Thursday 27 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

শুধু পাহাড়কাটা নয়, ছাত্রদল-শিবির কর্মী হত্যারও আসামি জসিম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৭ মার্চ ২০২৫ ১৪:০২ | আপডেট: ৭ মার্চ ২০২৫ ১৫:১৪

পুলিশের প্রেস ব্রিফিং।

চট্টগ্রাম ব্যুরো: ‘পাহাড়খেকো’ হিসেবেই পরিচিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসিম। কিন্তু শুধুমাত্র পাহাড়কাটা নয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদল কর্মী ওয়াসিম আকরাম ও শিবিরকর্মী ফয়সাল আহমেদ শান্ত হত্যাসহ মোট দেড় ডজন মামলার আসামি তিনি।

শুক্রবার (৭ মার্চ) সকালে নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইনের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উত্তর বিভাগের উপকমিশনার আমিরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

ওর আগে বুধবার (৫ মার্চ) রাতে রাজধানী ঢাকার বসুন্ধরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) সকালে তাকে চট্টগ্রাম আনা হয়।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে উপকমিশনার আমিরুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদে খবর পেয়ে বুধবার রাতে সিএমপি ও পাঁচলাইশ থানা পুলিশের একটি দল ঢাকার বসুন্ধরা এলাকার একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। ওই বাসা থেকে পাহাড়খেকো, ভূমিদস্যু ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলাকারী চসিকের সাবেক কাউন্সিলর জসিমকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলার সময় গত বছরের ১৬ জুলাই নগরীর ষোলশহর ও মুরাদপুর এলাকায় জসিমের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায় এবং আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলিবর্ষণ করে। এ ঘটনায় সেদিন ছাত্রদল কর্মী ওয়াসিম আকরাম, শিবিরকর্মী ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও ফার্ণিচার ব্যবসায়ী মো. ফারুক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। হামলায় ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা আমিরুল বলেন, ‘গ্রেফতার জসিম জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার যৌক্তিক আন্দোলনে হামলা চালায় এবং গুলিবর্ষণ করে, যা আমাদের তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে সিএমপির বিভিন্ন থানায় মোট ১৮টি মামলা রয়েছে। এরমধ্যে হত্যা মামলা আছে দুটি, পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে তিনটি, চাঁদাবাজির দুটি, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে একটি, বিস্ফোরক আইনে দুটি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে দুটি মামলা আছে। এছাড়া অন্যন্য ধারায় মামলা আছে আরও ছয়টি।’

বিভিন্ন পত্রিকায় লেখা হয়েছে পুলিশের হাতে গ্রেফতার তার ক্যান্সার আক্রান্ত স্ত্রীকে ছাড়াতেই তিনি নিজেই ধরা দিয়েছেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটা হাস্যকর স্টেটমেন্ট। আমি নিজে সেখানে ছিলাম। তিনি আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে পালাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার আগেই আমরা তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।’

এদিকে গ্রেফতার জহুরুল আলম জসিম চসিকের ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। তিনি ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে তিনি পরিচিত।

গ্রেফতার জহুরুল আলম জসিম।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে কাউন্সিলর জসিমের খোঁজে নগরীর আকবর শাহ থানার এ কে খান মোড়ে ‘গ্রীন গুলবাহার টাওয়ার’ নামে একটি ১৪ তলা আবাসিক ভবন ঘিরে অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ। রাতভর ভবনটির প্রতিটি ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়েও জসিমকে তারা খুঁজে পাননি। পরদিন দুপুরে ডবলমুরিং থানা পুলিশ ওই টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাটে আবারও অভিযান চালিয়ে জসিমের স্ত্রী তাসলিমা বেগমকে (৪০) গ্রেফতার করেছিল। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনে হামলার অভিযোগে একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

২০২৩ সালের ২৬ জানুয়ারি নগরীর আকবর শাহ থানার উত্তর পাহাড়তলীর সুপারি বাগান এলাকায় পাহাড় কাটা ও ছড়াখাল দখল পরিদর্শনে গেলে জহুরুল আলম জসিম ও তার সহযোগীদের হামলার শিকার হন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী (বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা) সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল। তারা রিজওয়ানা হাসানের গাড়িতে ঢিল ছোঁড়ে ও হুমকি দেয়।

এ ঘটনায় রিজওয়ানা হাসান আকবর শাহ থানায় জসিমসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১২ জুন ছয়জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। অভিযোগপত্রে জহুরুল আলম জসিমকে ১ নম্বর আসামি করা হয়।

পাহাড় কাটার অভিযোগে জহুরুল আলম জসিমের বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা আছে। ২০২৩ সালের ৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় নগরীর আকবর শাহ থানার বেলতলীঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে একজন নিহত ও চারজন আহত হন। ১১ এপ্রিল সেই পাহাড় কাটার

অভিযোগে জহুরুল আলম জসিম ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তিন প্রকৌশলীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আকবর শাহ থানায় মামলা দায়ের করে পরিবেশ অধিদফতর। এরপর ২৯ এপ্রিল নগরীর আকবর শাহ থানার উত্তর পাহাড়তলী এলাকায় কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসিমের পাহাড় কেটে নির্মাণাধীন গরুর খামার গুঁড়িয়ে দেয় জেলা প্রশাসন।

এর আগে, ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর আকবর শাহ থানার লেকসিটি আবাসিক এলাকায় পাহাড় কাটার অভিযোগে কাউন্সিলর জসিম ও তার স্ত্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল পরিবেশ অধিদফতর।

একাধিক ফৌজদারি মামলার আসামি হওয়ায় ২০২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি জসিমকে কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত করেছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তবে মাসখানেকের মধ্যেই আবার তিনি পদ ফিরে পান।

সারাবাংলা/আইসি/এমপি