Friday 28 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রাখাল রাহাকে এনসিটিবির কারিকুলাম কমিটি থেকে অপসারণের দাবি

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৮ মার্চ ২০২৫ ১৫:৩৫

প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সম্মিলিত শিক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: ধর্মীয় অনভূতিতে আঘাত, কারিকুলাম বিতর্ক করার অপরাধে বিতর্কিত লেখক রাখাল রাহা অরফে সাজ্জাদুর রহমানকে এনসিটিবির কারিকুলাম কমিটি থেকে দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছে সম্মিলিত শিক্ষা আন্দোলন। তা না করা হলে এনসিটিবি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সম্মিলিত শিক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর। এ সময় তিনি ৮ দফা দাবি তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, রাখাল রাহা আমাদের সঙ্গে শেষ দিকে যুক্ত হলেও তিনি উল্লেখযোগ্য কোন ভূমিকা পালন করেননি। উপরন্তু তিনি ঐতিহাসিক এই প্ল্যাটফর্মকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করেছেন যা শুধু আমাদের সাথেই না, পুরো জাতির সাথে প্রতারণা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, সম্প্রতি এনসিটিবি চেয়ারম্যান রিয়াজুল হাসান এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, রাখাল রাহার নেতৃত্বে অভিভাবকরা আন্দোলন করেছেন এবং সে কারণেই শিক্ষাক্রম পরিবর্তন হয়েছে। তার এই বক্তব্য দুরভিসন্ধিমূলক। এই বক্তব্য প্রত্যাহারের আহবান জানাচ্ছি এবং আমরা মনে করছি বিতর্কিত রাখাল রাহাকে জাতির নায়ক বানিয়ে এনসিটিবি তাদের ব্যর্থতা, দুর্নীতি এবং অনিয়ম আড়াল করতেই এই অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন। আমরা এনসিটিবির চেয়ারম্যানের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করছি এবং এই বক্তব্য প্রত্যাহার করে গণমাধ্যমে ক্ষমা চাইতে হবে।

এ সময় ৮ দফা দাবি তুলে ধরেন তিনি। তাদের দাবিগুলো হচ্ছে—রাখাল রাহাকে এনসিটিবির সকল কমিটি থেকে অপসারণ করে গণমাধ্যমে স্পষ্ট বিবৃতি দেওয়া ও তাকে হিরো বানিয়ে ভবিষ্যতে কোনরূপ পুনর্বহাল করা যাবেনা এবং তারমতো বিতর্কিত কাউকেই এনসিটিবির পরিমার্জন বা সংস্কার কমিটিতে যুক্ত করা যাবে না; ২০২৩ সালে দায়ের করা মামলায় জব্দ করা মালামাল ও ফেসবুক আইডি এগুলো দ্রুত ফেরত দেওয়া; প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অবিলম্বে মামলায় ক্ষতিগ্রস্তদেরকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া; পরিমার্জন কমিটি থেকে কত টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছেন তার দালিলিক প্রমাণ দেওয়া; পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণে ওভার প্রাইসিং রেটে প্রেসগুলিকে কাজ দিয়েছে এবং এনসিটিবির সিন্ডিকেট কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করা; পত্রিকায় এসেছে, ৪০টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান সিঙ্গেল বিডার হওয়ার পরও তাদেরকে কোনোরুপ কম্পিটিশন না করিয়ে এনসিটিবি কর্তৃপক্ষ তাদেরকে কাজ দিয়ে সরকারের বিপুল অর্থের ক্ষতি করেছে তার সুষ্ঠু তদন্ত করা; অবিলম্বে শিক্ষা কমিশন গঠন করে যুগোপযোগী শিক্ষা নীতি এবং বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও দেশীয় মূল্যবোধের আলোকে কারিকুলাম প্রণয়ন করা এবং ইউনেস্কোর পরামর্শ, দেশের মোট জিডিপির ৬ শতাংশ শিক্ষাখাতে ব্যয় করা।

সংবাদ সম্মেলন শেষে জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে যে সমস্ত স্কুলের শিক্ষার্থীরা এখনও বই পাইনি সেই বইগুলো দিতে হবে। অন্যথায় এনসিটিবি ঘেরাও করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত শিক্ষা আন্দোলনের সভাপতি কাজী সাইফুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল আমিন, জেসমিন, ডা. রিপা, তানিয়া আক্তার, কামাল হোসেন।

সারাবাংলা/ইএইচটি/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো