Wednesday 01 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

অভিষেকেই স্পেনকে রুখে দিয়ে কেপ ভার্দের চমক

স্পোর্টস ডেস্ক
১৬ জুন ২০২৬ ০২:১৯ | আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ ১১:৫৮

গোলপোস্টের নিচে মহাপ্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনহা। ছবি: ইন্টারনেট

ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ২-এ স্পেন, আর পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলের দেশ কেপ ভার্দের অবস্থান ৬৭। দেখেই বোঝা যাচ্ছে দু’দলের ব্যবধানটা আকাশ-পাতাল। কিন্তু এই আকাশ-পাতাল পার্থক্যকে এক ঝটকায় মাটিতে নামিয়ে আনল কেপভার্দে। আর এই নামিয়ে আনার নায়কের নাম দেশটির ৪০ বছর বয়সী গোলকিপার ভোজিনহা। যিনি গোলপোস্টের নিচে মহাপ্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।

অনেকের দৃষ্টিতে এবারের বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে স্পেন। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ের শুরুতেই হোঁচট খেল দেশটি। ২০১০ বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে প্রাণপণ লড়ে রুখে দিল প্রথমবার বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলতে আসা কেপ ভার্দে। ‘ফেবারিট’ স্পেনকে রুখে গোল শূন্য ড্রতে চমকে দিয়েছে মাত্র পাঁচ লাখ জনসংখ্যার দেশটি। কাগজে কলমে লড়াইটা স্পেন ও কেপ ভার্দের হলেও মাঠের লড়াইটা হয়েছে স্পেনের সঙ্গে কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনহার।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচের শুরুর একাদশে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসের মতো তারকাকে রাখেননি ফুয়েন্তে। তখনই ধারণা মিলেছিল, গোল করতে কিছুটা বেগ পেতে হতে পারে বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়নদের। তাই বলে আক্রমণ কম করেননি ওয়াজাবাল-ফেরান তোরেস-গাভি-পেদ্রিরা। কিন্তু কোনোভাবেই কেপ ভার্দের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারছিল না স্পেন। সেই রক্ষণ ভেদ করলেও সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন ভোজিনহা।

প্রথমার্ধে স্পেনের নেওয়া ১৩ শটের চারটি ছিল গোলপোস্টে। কিন্তু সবগুলোই ঠেকিয়েছেন ভোজিনহা। এর মধ্যে অন্তত তিনটি সেভ ছিল চোখ ধাঁধানো। ৩৮ মিনিটে পেদ্রির জোরালো শট দারুণভাবে ক্রসবারের ওপর দিয়ে পার করেছেন। তিন মিনিট যেতে না যেতেই আবারও স্পেনকে হতাশ করেন ভোজিনহা। ফেরান তোরেসের শট ক্রসবারে লেগে ফিরতি বল যায় ওয়ারজাবালের কাছে। সেখান থেকেই হেড করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেটিও ক্রসবারের ওপর দিয়ে পার করে দেন কেপভার্দে গোলকিপার। প্রথমার্ধের শেষ দিকে কর্নার থেকে নেওয়ার লাপোর্তার একটি হেডও ঝাঁপিয়ে বিপদমুক্ত করেন ভোজিনহা। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধেও প্রায় একইভাবে চলতে থাকে খেলা। স্পেন আক্রমণ করে ঠিকই। কিন্তু সেসব আর পূর্ণতা পায় না। ৭১ মিনিটে গাভি ও রুইজের বদলি হিসেবে ইয়ামাল ও মেরিনোকে মাঠে নামান ফুয়েন্তে। আক্রমণের ধারও বাড়িয়ে দেয় স্পেন। কিন্তু সর্বশক্তি দিয়ে ডিফেন্স করা কেপ ভার্দের রক্ষণ আর ভাঙতে পারেনি ফেবারিট তকমা লাগানো স্পেন। উলটো ম্যাচের শেষ মুহূর্তে দারুণ এক প্রতিআক্রমণে স্পেনের রক্ষণ কাঁপিয়ে দিয়েছে কেপ ভার্দে।

ইয়ামালের পর ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের তিন মিনিট আগে নিকো উইলিয়ামসকেও মাঠে নামান ফুয়েন্তে। নিজের প্রায় সেরা একাদশ খেলিয়েও শেষ পর্যন্ত নবাগত কেপ ভার্দের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয় ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

সারাবাংলা/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর