প্রতিবেশী মরক্কো থেকে উত্তর আফ্রিকার স্প্যানিশ ছিটমহল সেউতার সীমান্তে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী ঢুকেছেন। তাদের মধ্যে সেউতায় পৌঁছানোর চেষ্টাকালে অন্তত ১৫ জন পানিতে ডুবে মারা গেছেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) হাজার হাজার অভিবাসী জড়ো হলে স্পেন সেখানকার নিরাপত্তা জোরদার করতে সৈন্য পাঠাচ্ছে।
সেউতা সরকার জানায়, গত ১০ দিনে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার মানুষ সেখানে ঢুকেছেন। এরপরই এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার আরও শত শত মানুষ সেখানে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় কর্মকর্তারা মাদ্রিদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলেন, কিন্তু বৃহস্পতিবার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট জেসুস ভিভাস এ পরিস্থিতিকে ‘চূড়ান্ত মানবিক ও সামাজিক জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। ওই ছিটমহলের সীমানার নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সেখানে সেনা পাঠাতে স্পেন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্ত নজরদারি রাখতে এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে সশস্ত্র বাহিনীর ৬০ সদস্যকে সেখানে পাঠানো হবে।
স্পেনের সর্বোচ্চ আদালত এই মাসে রায় দিয়েছে, সেউতা বা স্পেনের আরেকটি ছিটমহল মেলিলায় পৌঁছানোর চেষ্টাকালে সমুদ্রে আটক হওয়া অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো যাবে না।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মানব পাচারকারী চক্রগুলোকে এই ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে ‘নথিবিহীন অভিবাসীদের স্রোতকে উৎসাহিত করার’ জন্য অভিযুক্ত করেছে।
মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘সেউতা শহরে নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য সশস্ত্র বাহিনী সিভিল গার্ডকে তার ক্ষমতা প্রয়োগে এবং প্রয়োজনীয় অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে সহায়তা করবে।’
মরক্কোর উত্তর উপকূলে অবস্থিত সেউতা শহরটি জিব্রাল্টার প্রণালী দ্বারা স্পেনের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এবং এটি দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টাকারী অভিবাসীদের একটি কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত।
স্পেনের ছিটমহল সেউতায় পৌঁছানোর চেষ্টাকারী অভিবাসীর সংখ্যা বেশ কয়েকদিন ধরেই বাড়ছিল।
এরপর বৃহস্পতিবার, সীমান্ত চিহ্নিতকারী জেটিটি সাঁতরে পার হওয়ার জন্য হাজার হাজার মানুষ কংক্রিটের বাঁধ বেয়ে সমুদ্রে নেমে পড়ে।
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, সেউতার ভূখণ্ডে প্রবেশের সময় কয়েকজন অভিবাসী ‘ভিভা এস্পানিয়া’ (স্পেন জিন্দাবাদ) বলে স্লোগান দিচ্ছেন। তাদের অনেকেই প্লাস্টিকের ভেলা বা হাওয়া ভরা নৌকায় ভেসে মরক্কো অঞ্চল থেকে জলপথে এসেছেন।
স্পেনের দিকে, সৈকতগুলো রাবারের রিং এবং ফ্লিপারে ছেয়ে যায়। কিছু অভিবাসী তাদের আগমন উদযাপন করলেও, পার হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে এক ডজনেরও বেশি মানুষ ডুবে মারা যায়।
মরক্কো থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার এই আকস্মিক বৃদ্ধির কারণ কী, বা সেখানকার কর্তৃপক্ষ এটি ঠেকানোর জন্য কতটা চেষ্টা করেছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এক পর্যায়ে, স্পেনের একজন কর্মকর্তা বলেন যে সীমান্তটি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনিয়মিত এই অভিবাসীদের উপস্থিতি সামাল দিতে তারা মরক্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। তারা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সুবিধা নেওয়া এবং অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করার জন্য মানব পাচারকারী চক্রগুলোকে দায়ী করেছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুক্রবার (৩১ জুলাই) সেউতা সফর করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।