অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে ৯ উইকেটের দুর্দান্ত জয় পাওয়া বাংলাদেশ ম্যাকাই টেস্টে কেমন করে সেদিকে চোখ ছিল সবার। তবে ম্যাকাইয়ে ডারউইনের পূণরাবৃত্তি ঘটল না। বাংলাদেশ লড়াই করতে পারল না অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে। দুই ইনিংসেই ব্যাটিং ব্যর্থতায় ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ।
টেস্টের প্রথম ইনিংসে মিচেল স্টার্কের আগুন ঝড়ানো বোলিংয়ে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল সফরকারীরা। পরে বাংলাদেশের পক্ষে পেসার শরিফুল ইসলামও আগুন ঝড়ান। একাই ৭ উইকেট তুলে নেন, যাতে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস গিয়ে থামে ২১০ রানে।
পরে দ্বিতীয় ইনিংসেও বল হাতে দাপট দেখান স্টার্ক। দ্বিতীয় ইনিংসে তুলে নেন ৪ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসেও শুরু থেকেই ভুগতে থাকা বাংলাদেশ গুটিয়ে গেছে ৯৫ রানে। যাতে দুই ইনিংস মিলিয়ে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরেছে বাংলাদেশ।
মাত্র ২১০ রান করেও ইনিংস ব্যবধানে জয় পেল অস্ট্রেলিয়া। টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে এত কম রান করে ইনিংস ব্যবধানে জয়ের এটি মাত্র তৃতীয় ঘটনা। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এর চেয়ে কম রানে ম্যাচ শেষ হয়েছে মাত্র একটি।
বাংলাদেশের বিপর্যয়ের মূল কারিগর মিচেল স্টার্ক। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১২ রান দিয়ে ছয় উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯ রানে চার উইকেট নেন এই বাঁহাতি পেসার। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নিয়ে অনেকটা ধসিয়ে দিয়েছেন সফরকারীদের। প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়নও দ্বিতীয় ইনিংসে তিনটি করে উইকেট নেন।
১৪৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে নেমে শুরু থেকেই ধুকেছে বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারে নিজের চিরচেনা গতির ঝাঁজ দেখান স্টার্ক। প্রথম ইনিংসের মতোই এবারও সাদমান ইসলামকে ফিরিয়ে শুরু করেন তিনি। ফ্লিক করতে গিয়ে টপ এজ তুলে দেন সাদমান, ক্যাচ হয়ে ফেরেন সাজঘরে।
পরের বলেই আরও বড় ধাক্কা। স্টার্কের ভেতরে ঢুকে আসা বল ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মুমিনুল হক। কিন্তু বলটি শেষ পর্যন্ত অফ স্টাম্পের বেল উড়িয়ে দেয়। টানা দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে শুরুতেই চাপে ফেলে দেন অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার।
দ্রুত দুই উইকেট হারানোর পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তার সঙ্গে জুটি বাঁধার আগেই ফিরে যান তানজিদ হাসান তামিম।
প্যাট কামিন্সের বাউন্সারে অদ্ভুত এক শট খেলতে গিয়ে ফাইন লেগে ক্যাচ দেন তানজিদ। প্রথম টেস্টেও এমন একটি শট খেলে জীবন পেয়েছিলেন তিনি, পরে সেই ইনিংসই সেঞ্চুরিতে রাঙিয়েছিলেন। এবার ভাগ্য সহায় হলো না বাংলাদেশের এই ওপেনারের।
৩৯ রানে তিন উইকেট হারিয়ে লাঞ্চে যায় বাংলাদেশ। দিনের দ্বিতীয় সেশনেও অজি পেসারদের দাপট অব্যাহত। আক্রমনাত্মক খেলতে থাকা শান্ত অজি স্পিনার নাথান লায়নকে অদ্ভূত এক শট খেলতে গিয়ে আউট। ৪৬ বলে ৬টি চারের সাহায্যে ফিরেছেন ৩১ রান করে। অস্ট্রেলিয়া সফরে আগের দুই ইনিংসের মতো এই ইনিংসেও ডাক লিটন দাস। মিচেল স্টার্কের বলে ক্যাচ দেন স্লিপে। খানিক বাদে প্যাট কামিন্সের বলে মেহেদি হাসান মিরাজও ফিরলে ষষ্ঠ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এরপর হাসান মাহমুদকে শর্ট বলের ফাঁদে ফেলেন কামিন্স। স্টার্ক তাইজুল ইসলামকে বোল্ড করে ম্যাচে নিজের ১০ উইকেট পূর্ণ করেন।
৮২ রানে আট উইকেট হারানোর পর ইনিংস পরাজয় এড়ানোর শেষ আশা হয়ে ছিলেন মুশফিক। তিনি ২৯ রানে অপরাজিত থাকলেও সঙ্গীর অভাবে দলকে আর বাঁচাতে পারেননি। চা-বিরতির পর ফিরে নাথান লায়ন দ্রুত তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসের ইতি টানেন।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়াকে গুটিয়ে দিয়েছিল ২১০ রানে। শরিফুল ইসলাম একাই নেন ৭ উইকেট। তার ৪৭ রানে ৭ উইকেট দেশের বাহিরে কোনো বাংলাদেশি বোলারের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। মাত্র দুই দিনে হারের মধ্যে শরিফুলের এই বোলিংটাই প্রাপ্তি।