Saturday 22 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সাকিবকে দেশে আসতে নিরুৎসাহিত করার ব্যাখ্যা দিলেন ক্রীড়া উপদেষ্টা

স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট
১৮ অক্টোবর ২০২৪ ১৩:০৬ | আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৪ ১৪:১১

ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট ম্যাচটা খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কাছ থেকে বাংলাদেশে ফিরছেন সাকিব এবং বিসিবিও সাকিবকে স্মরণীয় বিদায় উপহার দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে- বুধবার রাত পর্যন্ত এমন খবরই ছিল ক্রিকেটপাড়ায়। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার দৃশ্যাপটে পরিবর্তন। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে সাকিবকে আপাতত দেশে ফিরতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। যাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের বিমান ধরা সাকিব দুবাই পর্যন্ত এসেও দেশে ফিরলেন না। সাকিবকে আপাতত দেশে ফিরতে নিরুৎসাহিত করার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে এক বিবৃতিতে বলেছেন, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সাকিবের হঠাৎ দেশে ফেরা আটকে যাওয়া বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে টু-শব্দও করা হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হচ্ছিল না। আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বিবৃতি দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে চেয়েছেন।

‘আমি নিজেও চেয়েছি, সাকিব আল হাসানের মতো একজন ক্রিকেটার দেশের মাটিতে অবসর নিক। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে। তবে, প্রথম দিকেই বলেছি সাকিব আল হাসানের আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে জনমনে ক্ষোভ রয়েছে, যা স্বাভাবিক। রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করাসহ জনমনের ক্ষোভ নিরসনে তিনি ফেসবুক পোস্ট দিলেও সাম্প্রতিক প্রতিবাদে প্রতীয়মান হয়েছে যে তা যথেষ্ট ছিল না। যারা প্রতিবাদ করছে তাদেরও তা করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে।’

‘সাউথ আফ্রিকা ও বাংলাদেশের মধ্যকার সিরিজে কোনোপ্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই আপাতত দেশে খেলতে আসার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করে বিসিবিকে পরামর্শ দিতে হয়েছে। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার আশু ব্যবস্থা হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে সকলেরই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত বলে মনে করি। কোন অভিযোগ থাকলে আইনি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিয়েই তার সমাধান খোঁজা যেতে পারে।’

এর আগে সংবাদ মাধ্যমকে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেছিলেন, দেশে ফিরে বিদায়ী টেস্ট খেলতে সাকিবকে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। সাকিবের মতো ক্রিকেটারের স্মরণীয় বিদায় প্রাপ্য, এমন কথাও বলেছিলেন তিনি।

এরপর বিসিবির নির্বাচক হান্নান সরকার বলেছিলেন, বোর্ড ও সরকারের সবুজ সংকেত পেয়ে তবেই সাকিবকে মিরপুর টেস্টের স্কোয়াডে যুক্ত করা হয়েছে। সাকিব সে অনুযায়ী বাংলাদেশে আসার জন্য রওনাও দিয়েছিলেন। কিন্তু দেশে ফেরা হলো না তার।

ছাত্র-জনতার আন্দলনে পতন হওয়া আওয়ামী লীগ সরকারের সাংসদ ছিলেন সাকিব। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে মাগুড়া-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। সরকার পতনের পর সাকিবের নামে একটি হত্যা মামলাও দায়ের হয়েছে। আওগামী লীগ মনোনিত সাবেক সাংসদ সাকিবকে জাতীয় দলে খেলতে না দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে মিরপুর স্টেডিয়ামের সামনে।

কাল বিক্ষোভকারীরা বিসিবি সভাপতি বরাবর একটি স্মারকলিপিও দিয়েছেন। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাকিবের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে একদল বিক্ষোভকারী। বিষয়গুলো সাকিবের দেশে ফেরা শেষ মুহূর্তে আটকে দিতে বড় ভূমিকা রেখেছে মনে করা হচ্ছে।

সারাবাংলা/এসএইচএস