Saturday 22 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

শেষ ওভারে ৩০ রান তুলে বরিশালকে হারালেন সোহান

স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট
৯ জানুয়ারি ২০২৫ ১৭:৩৫ | আপডেট: ৯ জানুয়ারি ২০২৫ ১৭:৫৭

ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে শেষ ওভারে জয়ের জন্য ২৬ রান লাগত রংপুর রাইডার্সের। ক্রিজে তখন অষ্টম উইকেট জুটি। পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বিকে সঙ্গে নিয়ে ক্রিজে ছিলেন ২ রান করা ষষ্ঠ ব্যাটার নুরুল হাসান সোহান। সেই ম্যাচটা কিনা জিতে নিল রংপুর!

শেষ ওভারে নুরুল হাসান সোহান যা করেছেন ক্রিকেটে সচরাচর তা দেখা যায় না। বরিশালের পার্ট টাইম বোলার কাইল মায়ার্সের শেষ ওভার থেকে ৩০ রান তুলে নিয়ে অবিশ্বাস্য এক ম্যাচ জিতিয়েছেন সোহান। বরিশালের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটের রুদ্ধশ্বাস জয় পেয়েছে রংপুর।

কাইল মায়ার্সের ব্যাটে আগে ব্যাট করে ১৯৭ রানের বড় স্কোর গড়েছিল বরিশাল। পরে রংপুরের শুরুটা ভালো না হলেও দুই পাকিস্তানি ইফতিখার আহমেদ ও খুশদিল শাহ মিলে ম্যাচে রেখেছিলেন রংপুরকে। তবে শেষ দিকে পরপর উইকেট হারিয়ে চাপে পরে যায় রংপুর। এরপর শেষ ওভারে সোহানেই সেই টর্নেডো।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বরিশালের ১৯৭ রানের জবাব দিতে নেমে শুরুতেই অ্যালেক্স হেলসকে হারায় রংপুর। ফর্মে থাকা হেলসকে হারানোর প্রভাবটা পরে পাওয়ার প্লেতে। পাওয়ার প্লেতে মাত্র ৩৮ রান তুলতে পেরেছেন রংপুরের অপর দুই ব্যাটার তাওফিক খান ও সাইফ হাসান।

ফর্মে থাকা সাইফ আজ ফিরেছেন ১৮ বলে ২২ রান করে। আর প্রথম ১০ বল থেকে মাত্র ৩ রান তোলার তাওফিক ফিরেছেন ২৮ বলে ৩৮ রান করে। এরপর মিডল অর্ডারে দারুণ এক জুটি গড়ে রংপুরকে ম্যাচে রেখেছিলেন ইফতিখার আহমেদ ও খুশদিল শাহ।

কিন্তু ১৮তম ওভারে ইফতিখার আহমেদ ফিরতেই বড় চাপে পরে যায় রংপুর। খুশদিল শাহ একপ্রান্ত থেকে অবশ্য চেষ্টা চালিয়ে গেছেন জয়ের সম্ভবনা টিকিটয়ে রাখার। ১৯তম ওভারে তিন উইকেট তুলে নিয়ে রংপুরকে ম্যাচ থেকে অনেকটা ছিটকে দেন বরিশালের পাকিস্তানি পেসার জাহানদাদ খান।

সেই অবস্থা থেকে শেষ ওভারে গিয়ে সোহান যেভাবে দলকে জেতালেন রীতিমতো অবিশ্বাস্য। শেষ ওভারে কাইল মায়ার্সকে ৩টি চার ৩টি ছক্কা মেরেছেন সোহান। সব মিলিয়ে ৭ বল খেলে করেছেন ৩২ রান! এর আগে ইফতিখার আহমেদ ৩৬ বলে ৩টি করে চার-ছয়ে ৪৮ ও খুশদিল শাহ ২৪ বলে ২ চার ৫ ছয়ে ৪৮ রান করেছেন।

আগে ব্যাটিং করতে নেমে বরিশালের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও নাজমুল হোসেন শান্ত শুরুতে সংগ্রাম করেছেন রানের জন্য। তামিম ইকবালের বিপক্ষে ইনিংসের প্রথম ওভারটা মেডেন আদায় করে নিয়েছেন শেখ মাহেদি। মাহেদি নতুন বলে দারুণ বোলিং করেছেন।

তবে কিছু সময় নেওয়ার পর রান তুলেছেন তামিম-শান্ত। দশ ওভারে দুজনের ওপেনিং জুটি ছিল ৮১ রানে। তামিম-শান্ত ফিরেছেন পরপর। কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে ক্যাচ আউট হওয়ার আগে ৩০ বলে ৪টি চার ১টি ছয়ে ৪১ রান করেছেন শান্ত। ৩৪ বলে ৪টি চার ২টি ছয়ে ৪০ রান করা তামিম খানিকক্ষণ ফিরেছেন সেই রাব্বির বলেই।

তবে এই দুজনের বিদায়টা বুঝতেই দেননি কাইল মায়ার্স ও তাওহিদ হৃদয়। গত ম্যাচে বিধ্বংসী এক জুটি গড়েছিলেন দুজন। আজও যেন শুরু করলেন সেখান থেকেই! নিজের মোকাবিলা করা প্রথম বলটাই ছক্কা হাঁকানো মায়ার্স ইনিংসের শেষ পর্যন্ত রংপুরের বোলারদের নাভিশ্বাস তুলেছেন।

হৃদয়ের আজকের ইনিংসটা বড় হয়নি। ১৮ বলে একটি করে চার-ছয়ে ফিরেছেন ২৪ রান করে। মুশফিকুর রহিমের বদলে পাঁচে নেমে মাহমুদউল্লাহ রান পাননি। ৪ বলে ফিরেছেন ২ রান করে। তবে শেষ দিকে ফাহিম আশরাফ একটা ক্যামিও খেলেছেন। উল্টো পাশে কাইল মায়ার্সের ঝড় অব্যাহতই ছিল।

২০ ওভারে ১৯৭ রানে গিয়ে থেমেছে বরিশাল। মায়ার্স তখন ৬১ রানে অপরাজিত। এই রান করতে ২৯ বল খেলে ১টি চার আর ৭টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন মায়ার্স। ফাহিম আশরাফ মাত্র ৬ বলে করেছেন ২০ রান।

রংপুরের হয়ে কামরুল ইসলাম রাব্বি ২ উইকেট পেলেও ৩ ওভারে খরচ করেছেন ৪৭ রান। নাহিদ রানা ৪ ওভারে ৪ রান খরচায় উইকেট পাননি।

সারাবাংলা/এসএইচএস