Wednesday 30 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

নীল সমুদ্রের সবুজ প্রহরী: বিশ্ব সিগ্রাস দিবস

ফারহানা নীলা সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১ মার্চ ২০২৬ ১৫:৫১

প্রতি বছর ১ মার্চ পালিত হয় বিশ্ব সিগ্রাস দিবস। সমুদ্র ও উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্রে সিগ্রাসের গুরুত্ব তুলে ধরতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০২২ সালে এই দিবস পালনের ঘোষণা দেয়। মূল উদ্দেশ্য; সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং উপকূলীয় সম্প্রদায়ের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত এই অমূল্য উদ্ভিদের সংরক্ষণে বৈশ্বিক সচেতনতা বাড়ানো।

সিগ্রাস কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ

সিগ্রাস হলো ফুলধারী সামুদ্রিক উদ্ভিদ, যা অগভীর উপকূলীয় জলে বিস্তৃত সবুজ তৃণভূমির মতো ছড়িয়ে থাকে। অনেকেই একে সামুদ্রিক শৈবালের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন, কিন্তু সিগ্রাসের শিকড়, কাণ্ড ও পাতা রয়েছে-স্থলভাগের ঘাসের মতোই। এই তৃণভূমি অসংখ্য মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি ও সামুদ্রিক প্রাণীর আবাসস্থল। অনেক প্রজাতির মাছের জন্য এটি প্রজনন ও বেড়ে ওঠার নিরাপদ আশ্রয়।

বিজ্ঞাপন

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে নীরব লড়াই

সিগ্রাসকে বলা হয় ‘নীল কার্বন’ ভাণ্ডার। তারা বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে দীর্ঘ সময়ের জন্য মাটির নিচে সংরক্ষণ করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি একক এলাকায় সিগ্রাস বন অনেক স্থলভাগের বনভূমির তুলনায় বেশি কার্বন ধরে রাখতে সক্ষম। ফলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কমাতে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

উপকূল রক্ষার প্রাকৃতিক ঢাল

ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও ঢেউয়ের তীব্রতা কমাতে সিগ্রাস প্রাকৃতিক বাঁধের মতো কাজ করে। তাদের ঘন শিকড় মাটি আঁকড়ে ধরে উপকূলীয় ক্ষয় রোধ করে। এর ফলে উপকূলবর্তী মানুষের বসতি ও কৃষিজমি সুরক্ষিত থাকে। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড়প্রবণ অঞ্চলে এই সুরক্ষা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

হুমকি ও চ্যালেঞ্জ

বিশ্বজুড়ে সিগ্রাস তৃণভূমি নানা কারণে হ্রাস পাচ্ছে। দূষণ, উপকূলীয় উন্নয়ন, অতিরিক্ত নৌযান চলাচল, ট্রলার জাল টানা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এর প্রধান কারণ। পানির স্বচ্ছতা কমে গেলে সূর্যালোক পৌঁছায় না, ফলে সিগ্রাসের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সিগ্রাস এলাকা হারিয়ে গেছে।

সংরক্ষণে বিশ্ব উদ্যোগ

বিশ্ব সিগ্রাস দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন দেশে গবেষণা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সচেতনতামূলক আলোচনা ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে টেকসই মৎস্যচর্চা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সিগ্রাস মানচিত্রায়ন ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পেও কাজ করছে।

আমাদের দায়িত্ব

সমুদ্র আমাদের খাদ্য, অর্থনীতি ও পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সিগ্রাস সেই সমুদ্রের নীরব প্রহরী। তাদের টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন দূষণ কমানো, প্লাস্টিক ব্যবহার হ্রাস এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা। ছোট ছোট উদ্যোগই পারে এই সবুজ তৃণভূমিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করতে।

বিশ্ব সিগ্রাস দিবস তাই শুধু একটি দিবস নয়, এটি নীল পৃথিবীর সবুজ স্বপ্ন রক্ষার অঙ্গীকার।

সারাবাংলা/এফএন/এএসজি
বিজ্ঞাপন

রাজকীয় স্বাদের ছানার কোপ্তা কারি
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৫৪

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন