Sunday 16 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

কফি হাউসের আড্ডা এবার রহস্যের মোড়কে

এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক
১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৩৮

‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই…’— একটি গান নয়, যেন সময়ের বুক থেকে উঠে আসা দীর্ঘশ্বাস। মান্না দের কণ্ঠে ভেসে আসা এই কালজয়ী গান প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঙালির আবেগ, বন্ধুত্ব আর হারিয়ে যাওয়া সময়ের প্রতীক হয়ে আছে। অমল, নিখিলেশ, মৈদুল, সুজাতা— এই নামগুলো শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে কফি হাউসের ধোঁয়াটে আড্ডা, তর্ক-বিতর্ক আর তরুণ বয়সের স্বপ্ন।

এবার সেই গানই অনুপ্রেরণা হয়ে ফিরছে নতুন রূপে—চলচ্চিত্রের পর্দায়। কলকাতায় নির্মিত হচ্ছে নতুন সিনেমা ‘কফি হাউস’, যেখানে পরিচিত সেই চরিত্রগুলোকে দেখা যাবে একেবারে ভিন্ন আবহে। তবে এটি কোনো সরল নস্টালজিক গল্প নয়; বরং নির্মাতারা এই ছবিতে যোগ করেছেন সাসপেন্স ও রহস্যের স্তর।

বিজ্ঞাপন

গান থেকে সিনেমা— নতুন ব্যাখ্যার পথে

জেনি সরকার ও দীপায়ন মণ্ডলের যৌথ পরিচালনায় নির্মিত ‘কফি হাউস’ সিনেমাটি মূল গানের আবেগকে ধারণ করলেও গল্প বলার ধরন একেবারেই সমসাময়িক। আড্ডা, স্মৃতি আর প্রেমের পাশাপাশি এখানে রয়েছে হারিয়ে যাওয়া এক নারীর গল্প, অতীতের গোপন রহস্য আর সময়ের সঙ্গে লুকিয়ে থাকা কিছু না বলা সত্য।

ছবিতে রমা চরিত্রে অভিনয় করছেন প্রিয়াঙ্কা ভট্টাচার্য, সুজাতা হিসেবে দেখা যাবে অনুরাধা মুখোপাধ্যায়কে। ডি’সুজার ভূমিকায় শুভ্র সৌরভ দাস, মৈদুল চরিত্রে রজ্জাক হোসেন, নিখিলেশ হিসেবে পবন আগারওয়াল এবং অমল চরিত্রে অভিনয় করছেন শুভাশিস ঘোষ। পরিচিত নামগুলো থাকলেও তাদের সম্পর্ক, দ্বন্দ্ব আর ব্যক্তিগত গল্প এখানে নতুনভাবে নির্মিত।

সিনেমার গল্প শুরু হয় বর্তমান সময়ে, উত্তরবঙ্গের এক চা-বাগানে। সেখান থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান বয়স্কা সুজাতা। এই নিখোঁজের ঘটনাই গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সুজাতার খোঁজে নামেন তার নাতনি, আর অনুসন্ধানের একপর্যায়ে সে খুঁজে পায় একটি পুরোনো ডায়েরি।

ডায়েরির পাতায় পাতায় ধীরে ধীরে উন্মোচিত হতে থাকে অতীতের গল্প— দর্শক ফিরে যায় গত শতাব্দীর আশির দশকের কলকাতায়। সেই সময়ের কফি হাউস, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা আর রাজনৈতিক-সামাজিক টানাপোড়েন একে একে সামনে আসে। তবে এই স্মৃতিচারণার আড়ালেই লুকিয়ে থাকে এমন এক ঘটনা, যা সুজাতার নিখোঁজের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

নস্টালজিয়া আর সাসপেন্সের মেলবন্ধন

‘কফি হাউস’ সিনেমার বড় শক্তি এর দ্বৈত সময়রেখা— বর্তমান ও অতীত। একদিকে হারিয়ে যাওয়া এক নারীর খোঁজ, অন্যদিকে যৌবনের সেই আড্ডার আড়ালে চাপা পড়ে থাকা রহস্য। নাতনির অনুসন্ধানের পথ মোটেও সহজ নয়; তাকে পেরোতে হয় পারিবারিক নীরবতা, অজানা ভয় আর অতীতের অস্বস্তিকর সত্য।

কেন হঠাৎ নিখোঁজ সুজাতা? কফি হাউসের সেই আড্ডার আড়ালে লুকিয়ে ছিল কোন গোপন ঘটনা? বন্ধুত্বের নামে কি কোনো অপরাধ চাপা পড়েছিল?— এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতেই এগিয়ে যায় ছবির কাহিনি।

এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনেমাটি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। একদল দর্শক আবেগে ভাসছেন প্রিয় গানের চরিত্রগুলোকে পর্দায় দেখার অপেক্ষায়, অন্যদিকে কেউ কেউ আগ্রহী এই নতুন ব্যাখ্যা নিয়ে— গানের সরল নস্টালজিয়াকে সাসপেন্স ড্রামার কাঠামোয় কতটা সফলভাবে তুলে ধরা যায়।

নস্টালজিয়া সব সময়ই বাঙালির দুর্বল জায়গা। আর সেই নস্টালজিয়ার সঙ্গে যদি যুক্ত হয় রহস্য, অনুসন্ধান আর সময়ের গোপন ক্ষত—তাহলে ‘কফি হাউস’ শুধু স্মৃতির পুনরাবৃত্তি নয়, হতে পারে এক নতুন অভিজ্ঞতা।

কফির কাপ ঠান্ডা হয়ে গেছে বহু আগেই, আড্ডার কোলাহলও নেই আগের মতো। কিন্তু গল্প যদি নতুনভাবে বলা যায়, তবে হয়তো আবারও দর্শক ফিরে যাবে সেই কফি হাউসে— এবার রহস্যের টানে।

সারাবাংলা/এফএন/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর