ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি চার বছর আগের একটি কালো অধ্যায় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুখ খুলেছেন, যা ইতিমধ্যেই দেশের বিনোদন জগত এবং সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ২০২১ সালের ৪ আগস্ট নিজের বনানীর বাসায় আচমকা অভিযানের পর র্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়ার সেই ঘটনাকে সম্পূর্ণ বেআইনি এবং বিশেষ মহলের স্বার্থে সাজানো বলে দাবি করেছেন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি একটি অনলাইন টক শোতে র্যাবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্যের সূত্র ধরে পরীমনি দেশের মানুষের সামনে সত্য উঠে আসার কথা উল্লেখ করেন এবং তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালকের নির্দেশে তাকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে দাবি জানান। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ ও আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি সরাসরি রাষ্ট্রের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন যে, তার সেই যন্ত্রণাদায়ক দিনগুলো কিংবা সামাজিকভাবে ভূলুণ্ঠিত হওয়া সম্মান কি রাষ্ট্র আর কখনো ফিরিয়ে দিতে পারবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুগল ট্রেন্ডস ও বিনোদন দুনিয়ার সার্চ তালিকায় পরীমনির নাম এখন শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে, যা সারাবাংলা ডট নেট সহ দেশের প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলোর মনোযোগ কেড়েছে।
দীর্ঘ ২৮ দিন কারাগারে কাটানোর সেই দুঃসহ অভিজ্ঞতা পরীমনির ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত জীবনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং যেভাবে তাকে সবার সামনে অপদস্থ করে তার চরিত্র ও নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তাকে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের এক বেদনাদায়ক অধ্যায় বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে চার বছর আগের এই ঘটনা নিয়ে পরীমনি কোনো প্রতিশোধের কথা ভাবছেন না, বরং ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এমন অন্যায় পরিস্থিতির শিকার না হন, সেই প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন। কঠিন সেই সময়ে পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী, সাংবাদিক এবং ভক্তদের অবদানের কথা স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও তার আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়ে যায়নি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সেই মামলাটি বর্তমানে ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে এবং এর পাশাপাশি ঢাকা বোট ক্লাবের ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলা এবং ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা পাল্টা মামলাটিও আদালতে বিচারাধীন। অতীতের এই ঝড় সামলে পরীমনি আজ যেভাবে নিজের অধিকার ও সম্মানের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন, তা ইন্টারনেট দুনিয়ায় তীব্র চর্চার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।