চলতি সময়ের পরিচিত মডেল ও বড় পর্দার নতুন মুখ স্নিগ্ধা চৌধুরী সম্প্রতি একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন। গেল কোরবানি ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে এই তরুণী অভিনেত্রীর। তবে এবার কোনো নতুন চলচ্চিত্রের খবরের চেয়ে বড় এক আইনি পদক্ষেপ ও হয়রানির অভিযোগ নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন তিনি। বিজ্ঞাপনের লোভনীয় চুক্তির প্রলোভন দেখিয়ে তাকে একটি হাসপাতালে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তার ওপর চালানো হয় অমানবিক শারীরিক নির্যাতন। এই ঘটনার পর ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় তিনি নিজে বাদী হয়ে রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করেছেন।
গত রবিবার ২৬ জুলাই রাতে খিলক্ষেত থানায় এই মামলাটি রেকর্ড করা হয়। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, একটি বিজ্ঞাপনের চুক্তি স্বাক্ষর করার কথা বলে স্নিগ্ধাকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর পর মোটেও তেমন কোনো কাজের পরিবেশ পাওয়া যায়নি। বরং সেখানে এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হন এই অভিনেত্রী। একটি গ্রুপের চেয়ারম্যান তাকে ‘জেবা তাকিয়া’ নামের সম্পূর্ণ ভিন্ন এক নারী হিসেবে ভুল করেন এবং সেই ক্ষোভ থেকেই তার ওপর চড়াও হন। অভিযুক্ত ব্যক্তির ধারণা ছিল, ওই নারী তার সঙ্গে প্রতারণা করে প্রচুর অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। মূলত ভুল পরিচয়ের খেসারত দিতে গিয়েই মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে স্নিগ্ধাকে।
মামলার বিবরণীতে আরও উঠে এসেছে অত্যন্ত লোমহর্ষক কিছু তথ্য। নির্যাতনের সময় অভিযুক্তরা তার হাত ও পা শক্ত করে বেঁধে ফেলে এবং তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে। শুধু তাই নয়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ইমন নামের এক ব্যক্তি পুরো পরিস্থিতি শান্ত করার ন্যূনতম চেষ্টা তো করেননি, বরং উল্টো স্নিগ্ধাকে জোরপূর্বক ওই প্রতারক নারীর পরিচয় স্বীকার করার জন্য নানাভাবে চাপ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তার গলা চেপে ধরা হয়, চুল টেনে ধরা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। এতে তার পুরো শরীরজুড়ে দৃশ্যমান আঘাতের ক্ষতচিহ্ন তৈরি হয়েছে বলে তিনি এজাহারে উল্লেখ করেছেন। ঘটনার আকস্মিকতা এবং নিজের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তিনি শুরুতে তাৎক্ষণিকভাবে আইনের আশ্রয় নিতে কিছুটা দ্বিধায় ভুগলেও, পরবর্তীতে দৃঢ় মনোবল নিয়ে আইনি লড়াইয়ের পথে হেঁটেছেন।
ঘটনার বিষয়ে খিলক্ষেত থানা পুলিশ গণমাধ্যমকে জানিয়েছে যে, অভিনেত্রীর করা অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি বর্তমানে নিবিড় তদন্তের অধীনে রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।