কিংবদন্তি অভিনেতা সুনীল দত্ত ও নার্গিসের জ্যৈষ্ঠ সন্তান, চার দশকেরও বেশি সময় ধরে রূপালি পর্দা কাঁপানো অভিনেতা সঞ্জয় দত্তের আজ জন্মদিন। ১৯৫৯ সালের ২৯ জুলাই জন্ম নেওয়া এই অভিনয়শিল্পী বৈচিত্র্যময় অভিনয় শৈলী এবং নজরকাড়া ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে ভারতীয় চলচ্চিত্রে নিজস্ব এক ধারা প্রতিষ্ঠা করেছেন।
১৯৮১ সালে বাবা সুনীল দত্ত পরিচালিত ‘রকি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রথম নায়ক হিসেবে রূপালী পর্দায় পা রাখেন তিনি। প্রথম ছবিতেই দুর্দান্ত সাফল্যের পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। পরবর্তীতে ‘সাজন’, ‘সড়ক’, ‘খলনায়ক’, ‘বাস্তব’, ‘মিশন কাশ্মীর’, এবং ‘মুন্না ভাই এমবিবিএস’-এর মতো কালজয়ী চলচ্চিত্রে অসাধারণ অভিনয় দিয়ে দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে তোলেন। গ্যাংস্টার ও অ্যাকশনধর্মী চরিত্রে তার বলিষ্ঠ উপস্থিতি যেমন প্রশংসিত হয়েছে, তেমনই ‘মুন্না ভাই’ সিরিজের কমেডি এবং আবেগঘন চরিত্রে অভিনয় করে তিনি প্রমাণ করেছেন তার বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর।
কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনে অনেক ঝড়-ঝাপটা, আইনি জটিলতা এবং ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি অতিক্রম করতে হলেও তিনি বারবার প্রবল শক্তিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। বর্তমানে অ্যাকশন ও ড্রামা ঘরানার পাশাপাশি মূল খলনায়কের চরিত্রে তিনি সমানভাবে দ্যুতি ছড়িয়ে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ের ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’ ও অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষার চলচ্চিত্রে তার অনবদ্য চরিত্র অভিনয় প্রমাণ করে যে বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র।
জ্যেষ্ঠ চলচ্চিত্র বোদ্ধারা বলেন, ভারতীয় চলচ্চিত্রে সঞ্জয় দত্তের অবদানের তুলনা তিনি নিজেই। তারা আরও বলেন, রুপালী পর্দায় তার উপস্থিতি এবং চরিত্রের ভেতরে প্রবেশ করার অসাধারণ ক্ষমতা নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের জন্য সবসময়ই দিকনির্দেশনা হয়ে থাকবে। অভিনয় বিশেষজ্ঞরা বলেন, অ্যাকশন ও কমেডি উভয় ধারাতেই সমান পারদর্শিতা দেখানো অত্যন্ত কঠিন একটি শিল্প। তারা আরও বলেন, সঞ্জয় দত্ত যেভাবে প্রতিটি ভিন্নধর্মী চরিত্রে নিজের স্বাভাবিক দক্ষতা ফুটিয়ে তুলেছেন, তা তাকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অবিসংবাদিত তারকা হিসেবে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।