বিনোদনাঙ্গনে শোকের ছায়া ফেলে মাত্র ৩৬ বছর বয়সেই অকালে নিভে গেল জনপ্রিয় মার্কিন অভিনেত্রী হেইডেন প্যানেটিয়ারের জীবনপ্রদীপ। গত ১৬ আগস্ট প্রকাশ্যে আসে তার এই হঠাৎ অকালমৃত্যুর মর্মান্তিক খবর। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন তার নিজস্ব মুখপাত্র।
অভিনেত্রীর চিরবিদায়ের পর তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী দল থেকে এক আবেগঘন বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে গভীর শোক প্রকাশ করে বলা হয়, অত্যন্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানাচ্ছি, আমাদের সকলের প্রিয় হেইডেন আর আমাদের মাঝে নেই। তিনি ছিলেন আলোর মতো এক উজ্জ্বল ও শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব, যিনি তার পরিচিত মানুষজন এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা লক্ষ লক্ষ দর্শকের জীবনে অপরিসীম ভালবাসা ও আনন্দ ছড়িয়ে দিয়েছেন।
হুট করে চলে গেলেও হেইডেনের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে কিছু সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি পিঠ ও কোমরের তীব্র যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। এই শারীরিক অসুস্থতা নাকি অন্য কোনো জটিলতা, ঠিক কী কারণে তার এমন অকালপ্রস্থান ঘটল তা এখনও পুরোপুরি ধোঁয়াশায় ঢাকা রয়েছে।
একেবারে শৈশবকালেই অভিনয়জগতে পা রেখেছিলেন হেইডেন প্যানেটিয়ার। পরবর্তীতে টেলিভিশন দুনিয়ায় তুমুল জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘হিরোজ’-এ ক্লেয়ার বেনেট চরিত্রটি তাকে এনে দেয় আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও তুমুল দর্শকপ্রিয়তা। পাশাপাশি আরেকটি হিট ধারাবাহিক ‘ন্যাশভিল’-এ জুলিয়েট বার্নস চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করে নিজের আলাদা অবস্থান পোক্ত করেন তিনি।
ছোটপর্দার গণ্ডি ছাড়িয়ে রূপালি পর্দাতেও সমান উজ্জ্বল ছিল তার পদচারণা। চলচ্চিত্রে তার স্মরণীয় কাজের তালিকায় রয়েছে ‘রিমেম্বার দ্য টাইটানস’, ‘রেজিং হেলেন’, ‘আইস প্রিন্সেস’, ‘স্ক্রিম ৪’ এবং ‘স্ক্রিম ৬’-এর মতো আলোচিত ও ব্যবসা সফল সব সিনেমা।
চলতি বছরের মে মাসে প্রকাশিত নিজের আত্মজীবনীতে ব্যক্তিজীবনের নানা অজানা দিক নিয়ে অত্যন্ত খোলামেলা আলোচনা করেছিলেন এই অভিনেত্রী। শৈশবে শিশুশিল্পী হিসেবে অভাবনীয় তারকাখ্যাতি মিললেও ক্যারিয়ারের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারার আফসোস ঝরেছিল সেখানে। দীর্ঘদিনের অন্তরাল, সন্তান জন্মের পর প্রসব-পরবর্তী কঠিন মানসিক বিষণ্ণতা এবং মাদকাসক্তির সঙ্গে নিজের জীবনঘাতী লড়াইয়ের নির্মম সত্যিগুলো নিঃসংকোচে পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছিলেন তিনি।