মহারাষ্ট্রে নিষিদ্ধ পান মসলা ও তামাকজাত পণ্যের পরোক্ষ বা ‘সারোগেট’ বিজ্ঞাপনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে বলিউডের তিন জনপ্রিয় তারকা শাহরুখ খান, অজয় দেবগন ও টাইগার শ্রফকে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছে মহারাষ্ট্র ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)। মূলত ‘বিমল এলাচি’র বিজ্ঞাপনে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করার কারণেই তাদের বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
এফডিএর স্পষ্ট অভিযোগ, ‘বিমল এলাচি’র মতো সাধারণ পণ্যকে সামনে রেখে প্রকৃতপক্ষে নিষিদ্ধ পান মসলা এবং তামাকজাত পণ্যের পরোক্ষ প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সরকারি সংস্থাটির দাবি, সাধারণ বাজারে ‘বিমল’ ব্র্যান্ডটি মূলত নিষিদ্ধ পান মসলার সাথেই ব্যাপকভাবে পরিচিত। ফলে সুগন্ধি এলাচির বিজ্ঞাপনের আড়ালে অন্তরালে থাকা নিষিদ্ধ তামাক পণ্যের অনৈতিক প্রসার ঘটানো হচ্ছে কি না, তা নিয়ে চরম প্রশ্ন তুলেছে রাজ্য সরকার।
খাদ্য নিরাপত্তা ও মান আইন, ২০০৬ (FSS Act, 2006) এবং সংশ্লিষ্ট ধারার আওতায় তিন তারকাকে এই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার পর আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তাদেরকে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া না গেলে প্রযোজ্য আইনি বিধি অনুযায়ী পরবর্তী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে এফডিএ।
কেবল শীর্ষ তারকাদের বিজ্ঞাপন ঘিরেই থেমে নেই সংস্থাটি; মহারাষ্ট্রজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে বর্তমানে বিশাল অভিযান চালাচ্ছে এফডিএ। হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন সরকারি ক্যান্টিনে ঝটিকা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি নামীদামি চেইন রেস্তোরাঁগুলোতেও জোর তল্লাশি শুরু করেছে তারা।
এই বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে সাতারা জেলার কারাদে স্যাফায়ার ফুডস পরিচালিত একটি নামী ‘পিজ্জা হাট’-এর লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। নিরামিষ ও আমিষ পিজ্জা তৈরির ক্ষেত্রে পৃথক ওভেন ও প্যান ব্যবহার না করার গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের কারণে তাদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, আকোলা জেলায় স্যাফায়ার ফুডসের অপর একটি আউটলেটে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫৫ কেজি নিম্নমানের এবং বিভ্রান্তিকর লেবেলযুক্ত ফ্রোজেন পনির জব্দ করেছে এফডিএ।
এফডিএ সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যজুড়ে চলা এই বিশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ১০৪টি চেইন রেস্তোরাঁ পরিদর্শন করা হয়েছে। এর মধ্যে মারাত্মক ত্রুটি পাওয়ায় ২টি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৯৫টি প্রতিষ্ঠানকে মানোন্নয়নের নোটিশ প্রদান এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সরাসরি বাতিল বা স্থগিত করেছে কৃর্তপক্ষ।
একদিকে জনস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেস্তোরাঁগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ, অন্যদিকে নিষিদ্ধ তামাকজাত পণ্যের সারোগেট বিজ্ঞাপনের অভিযোগে বলিউডের প্রথম সারির তারকাদের নোটিশ পাঠোনো, সব মিলিয়ে মহারাষ্ট্র এফডিএর এই সাম্প্রতিক অল-আউট তৎপরতা পুরো শিল্পজুড়ে বেশ কড়া বার্তাই ছড়িয়ে দিচ্ছে।