বক্স অফিসে রীতিমতো ঝড় তুলে দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলেছে বলিউড অভিনেতা ইমরান হাশমির নতুন সিনেমা ‘আওয়ারাপান টু’। হিন্দি সিনেমার বাজার মাতানো এই ছবিটি মুক্তির মাত্র তিন দিনের মাথায় বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটি রুপি আয়ের মাইলফলক অনায়াসে অতিক্রম করেছে। সেই সঙ্গে এটি ইমরান হাশমির একক প্রধান চরিত্র হিসেবে অভিনয়ে সর্বোচ্চ আয়ের এক অনন্য রেকর্ড গড়ে তুলেছে।
চলচ্চিত্র বাণিজ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান স্যাকনিল্কের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভারতে মুক্তির প্রথম তিন দিনে সিনেমাটি ৮১ কোটি ৭৫ লাখ রুপি নেট ব্যবসা করেছে। কেবল ভারত থেকেই এর গ্রস আয় গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮ কোটি ১০ লাখ রুপিতে। ওভারসিজ বা আন্তর্জাতিক বাজারের উপার্জন যোগ হতেই বিশ্বজুড়ে সিনেমাটির সর্বমোট সংগ্রহ এসে ঠেকেছে ১১০ কোটি ১০ লাখ রুপিতে।
প্রেক্ষাগৃহে প্রথম দিন থেকেই সিনেমাটির ধারাবাহিক উত্থান লক্ষ করা গেছে। ছবিটির আয়ের গ্রাফ বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুক্রবার মুক্তির প্রথম দিনে এটি নেট ২২ কোটি রুপি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। শনিবার সপ্তাহান্তে এর ব্যবাসায়িক আয় আরও লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩ কোটি ৭৫ লাখ রুপিতে। এরপর রোববার ভারতের প্রায় ৯ হাজার ৪০৩টি শোর মধ্য দিয়ে ছবিটি একক দিনেই তুলে আনে আরও ২৬ কোটি রুপি।
মূলত ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রশংসিত ও জনপ্রিয় সিনেমা ‘আওয়ারাপান’-এর সিক্যুয়েল হিসেবে নির্মিত হয়েছে নতুন এই কিস্তি। ২০০৭ সালের ফ্লপ তকমা পাওয়া সেই প্রথম কিস্তির সর্বমোট আয় ছিল মাত্র ৭ কোটি ৭৫ লাখ রুপি। নতুন সিক্যুয়েলটি মুক্তির প্রথম দিনেই এক ছক্কায় পুরানো কিস্তির সেই পুরো আয়কে বহুদূরে পেছনে ফেলে দিয়েছে।
নতুন এই বিশাল সাফল্য ইমরান হাশমির ক্যারিয়ারের পূর্ববর্তী বহু জনপ্রিয় হিট সিনেমার আয়কেও ছাড়িয়ে গেছে। অভিনেতা হিসেবে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যান্য হিট সিনেমার প্রথম দিনের সংগৃহীত আয়ের তালিকায় রয়েছে ‘হক’ (২০ কোটি), ‘রাজ টু’ (২৫ কোটি ৫০ লাখ), ‘এক থি ডায়েন’ (২৬ কোটি) এবং ‘জান্নাত’ (৩০ কোটি)। বর্তমানের এই নতুন সিক্যুয়েলটির চোখধাঁধানো বাণিজ্য পূর্ববর্তী সব রেকর্ড এক নিমেষে চূর্ণ করে দিয়েছে।
একই সময়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়ে লড়াই চালানো সানি দেওলের সিনেমা ‘বাটোয়ারা ১৯৪৭’-এর সঙ্গে টেক্কা দিয়েও বেশ বড় ব্যবধানে আয়ের দিক থেকে বিজয়ী হিসেবে অনেক দূর এগিয়ে রয়েছে ইমরান হাশমির এই নতুন সিনেমাটি।
চলচ্চিত্র নির্মাতা নীতিন কক্কড় পরিচালিত ছবিটিতে ইমরান হাশমির সঙ্গে পর্দা ভাগ করে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দারুণ অভিনয় তুলে ধরেছেন দিশা পাটানি এবং বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শাবানা আজমি। যদিও প্রথমার্ধে চলচ্চিত্র সমালোচকদের কাছ থেকে কিছু মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও মতামত মিলছে, তবুও প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাপ্রেমী দর্শকদের সরাসরি উপস্থিতি, করতালি ও ব্যাপক প্রশংসাই তৈরি করে দিচ্ছে এর অভাবনীয় সাফল্যের গল্প।