বিনোদন জগতে আলো ঝলমলে রূপালী পর্দার পেছনের অন্ধকার কীভাবে ধীরে ধীরে একটি উদীয়মান জীবনকে গ্রাস করে নেয়, তা যেন আরও একবার নিদারুণভাবে সামনে এলো। তরুণ ভারতীয় অভিনেত্রী অনন্যা রাজের এই আকস্মিক বিদায় পুরো বিনোদন অঙ্গন ও তার অনুরাগীদের স্তম্ভিত করে দিয়েছে। রহস্যের কুয়াশা জড়িয়ে অত্যন্ত নীরবে ও আড়ালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন ‘৭ আওয়ার্স টু গো’, ‘দ্য ফাইনাল এক্সিট’, ‘ঘোস্ট’ এবং তেলুগু হিট সিনেমা ‘থাগ্গেদে লে’-র মতো থ্রিলার ও ভৌতিক ধারার ছবির এই পরিচিত মুখ।
মৃত্যুর দীর্ঘ এক মাস পর আচমকাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে আসে সেই মর্মস্পর্শী ঘোষণা। অনন্যার পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়, গত ১৫ জুলাই ভোরে ঘুমের মাঝেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। এক মাস ধরে এই খবরটি পুরোপুরি গোপনে রাখা এবং পরবর্তীতে অনন্যার ব্যক্তিগত সামাজিক মাধ্যমের পাতায় পরিবারের একটি মাত্র সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রকাশ করা নিয়ে ভক্তদের মনে জমা হয়েছে নানা প্রশ্ন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সেই শোকবার্তায় জানানো হয়, গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শারীরিক ও কঠিন মানসিক অস্বস্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন অনন্যা। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে একজন অদম্য যোদ্ধার মতোই লড়াই করে গেছেন তিনি। কিন্তু সমস্ত লড়াইয়ের পথ থমকে যায় গত ১৫ জুলাইয়ের নীরব ভোরে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অনন্যা নিজের জীবন সম্পূর্ণ নিজস্ব নিয়মে ও রাজকীয় ঢঙে বাঁচতেন।
হিন্দি ও আঞ্চলিক চলচ্চিত্রে নিজের অভিনয়ের ছাপ রাখার পাশাপাশি হিন্দি সংগীত জগতেও সমানভাবে জনপ্রিয় ছিলেন অনন্যা রাজ। টি-সিরিজ, জি মিউজিক ও টাইমস মিউজিকের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় মিউজিক প্ল্যাটফর্মের একাধিক জনপ্রিয় ভিডিওতে তাকে দেখা গেছে। অভিনয় জীবনের সম্ভাবনাময় এই সময়ে তার এমন অকালবিদায় সত্যিই অনাকাঙ্ক্ষিত।
মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে তার শেষকৃত্যের কয়েকটি ছবি শেয়ার করে পরিবার সবাইকে অনন্যার বিদেহী আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনার অনুরোধ জানিয়েছে। একইসঙ্গে এই কঠিন শোকের মুহূর্তে পরিবারের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রাখার আবেদন জানিয়ে যেকোনো অনুসন্ধানী প্রশ্ন বা যোগাযোগ করা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। রহস্যজনক শারীরিক ও মানসিক কষ্টের লড়াই শেষ করে না-ফেরার দেশে চলে যাওয়া অনন্যা রাজের এই অন্তিম প্রস্থান বিনোদন দুনিয়ায় দীর্ঘশ্বাসের কারণ হয়ে থাকল।