Sunday 16 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সুসংহত সমাজ ও সুসম্পর্ক গঠনে ইসলামের পাঁচ মূলনীতি

সারাবাংলা ডেস্ক
১১ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৩৪

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, একে অপরের বিপদে এগিয়ে আসা এবং অধিকার রক্ষা করা ঈমানের পূর্ণতার বহিঃপ্রকাশ। রাসুলুল্লাহ (সা.) মুমিনদের একটি দেহের সাথে তুলনা করেছেন, যেখানে একটি অঙ্গ ব্যথিত হলে পুরো শরীর তা অনুভব করে (মুসলিম)। অথচ বর্তমান অস্থির সময়ে মানুষ ক্রমশ আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে, ফলে ঠুনকো কারণেও ভেঙে যাচ্ছে আজীবনের সম্পর্ক। এই সংকট থেকে উত্তরণে ইসলামের কিছু সমাধান …

ন্যায়ের প্রশ্নে আপসহীনতা

সম্পর্কের টানাপোড়েনে আমরা প্রায়ই নিজের ভুল ঢেকে অন্যের দোষ খুঁজতে ব্যস্ত থাকি। অহংকার ও জিদ আমাদের সত্য গ্রহণে বাধা দেয়। কিন্তু পবিত্র কোরআনের নির্দেশ হলো, সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো, তা যদি নিজের বা পরিবারের বিপক্ষেও যায়।

বিজ্ঞাপন

‘হে মুমিনগণ! তোমরা ন্যায়ের ওপর দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত থাক এবং আল্লাহর ওয়াস্তে সত্য সাক্ষ্য দাও, তাতে তোমাদের নিজেদের কিংবা পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের ক্ষতি হলেও।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১৩৫)

মন্দের বদলে ভালো উপহার দেওয়া

অধিকাংশ মানুষ অন্যায়ের বদলে পাল্টা আঘাত করতে চায়, যা তিক্ততা বাড়ায়। ইসলাম এখানে ‘ক্ষমা’ ও ‘উত্তম আচরণের’ ফর্মুলা দেয়। মহান আল্লাহ বলেন:

‘ভালো এবং মন্দ সমান হতে পারে না। তুমি মন্দকে প্রতিহত করো তা দিয়ে যা সর্বোৎকৃষ্ট। ফলে তোমার ও যার মধ্যে শত্রুতা ছিল, সে তোমার অন্তরঙ্গ বন্ধু হয়ে যাবে।’ (সুরা ফুসসিলাত, আয়াত: ৩৪)

কুধারণা ও পরনিন্দা বর্জন

অহেতুক সন্দেহ এবং আড়ালে সমালোচনা (গিবত) একটি সুস্থ সম্পর্ককে ভেতর থেকে বিষাক্ত করে তোলে। শয়তান মানুষের মনে অন্যের প্রতি মন্দ ধারণা সৃষ্টি করে দূরত্ব বাড়ায়। এ প্রসঙ্গে কোরআনি সতর্কতা হলো:

‘হে মুমিনগণ! তোমরা অধিকাংশ অনুমান থেকে দূরে থাকো। কারণ কোনো কোনো অনুমান তো পাপ।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ১২)

ক্রোধ জয় করা

ক্ষণিকের রাগ অনেক সময় দীর্ঘদিনের সাজানো সম্পর্ক ধূলিসাৎ করে দেয়। ইসলামে রাগ নিয়ন্ত্রণ করাকে প্রকৃত বীরত্ব বলা হয়েছে। বুখারি শরিফের হাদিস অনুযায়ী, প্রকৃত বীর সেই নয় যে কুস্তিতে অন্যকে হারিয়ে দেয়, বরং সেই ব্যক্তিই বীর যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

আলোচনার পথ খোলা রাখা

সম্পর্ক বিচ্ছেদের বড় কারণ হলো যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া। ইসলাম তিন দিনের বেশি কথা বন্ধ রাখা সমর্থন করে না। পারস্পরিক অভিযোগগুলো পুষে না রেখে যদি খোলামেলা আলোচনা করা হয়, তবে অনেক জটিল সমস্যার সহজ সমাধান সম্ভব।

পরস্পরের প্রতি দোষারোপ কমিয়ে সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ বাড়াতে পারলেই আমাদের ঘর ও সমাজ শান্তিময় হয়ে উঠবে। অন্যের ভুলগুলো ক্ষমা করে দিয়ে মহত্ত্ব প্রদর্শনই ইসলামের মূল শিক্ষা।

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি