Monday 05 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সেকেন্ড হ্যান্ড বাইক কেনার আগে যা জানা জরুরি

সারাবাংলা ডেস্ক
২ জুলাই ২০২৬ ১৮:৪৪

ঢাকা বা দেশের যেকোনো ব্যস্ত শহরের যানজট এড়াতে মোটরসাইকেলের চেয়ে দারুণ বিকল্প আর নেই। কিন্তু বর্তমান বাজারে নতুন বাইকের যে চড়া দাম, তাতে অনেকেরই ভরসা সেকেন্ড হ্যান্ড বা ব্যবহৃত মোটরসাইকেল। তবে একটু অসাবধানতার কারণে ব্যবহৃত বাইক কিনতে গিয়ে অনেকেই প্রতারিত হন বা পরে বড় ধরণের লোকসানে পড়েন। তাই একটি ব্যবহৃত মোটরবাইক কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কোন কোন যান্ত্রিক ও বাহ্যিক বিষয়গুলো নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করা উচিত, তা জেনে নেয়া যাক…

নিজের চাহিদা ও বাইকের মডেল নির্ধারণ

প্রথমেই ঠিক করুন আপনার ঠিক কী ধরণের বাইক প্রয়োজন—রেগুলার কমিউটার নাকি স্পোর্টস বাইক? আপনার বাজেট ও চাহিদার সাথে মিল রেখে আগেই নির্দিষ্ট কিছু মডেল মনে মনে ঠিক করে রাখুন। প্রয়োজনে সেই মডেলের নতুন একটি বাইক শোরুমে গিয়ে দেখে আসতে পারেন, যাতে ব্যবহৃত বাইকটি দেখার সময় তুলনামূলক পার্থক্য সহজেই ধরতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

বয়স ও আসল মাইলেজ পরীক্ষা

বাইকটি কত বছর ধরে রাস্তায় চলছে এবং মোট কত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে, তা জানা জরুরি। তবে মনে রাখবেন, ওডোমিটার বা মাইলেজ কাউন্টার কিন্তু সহজেই কারসাজি করে কমিয়ে ফেলা যায়। তাই শুধু মিটারের রিডিং না দেখে ইঞ্জিনের শব্দ এবং সামগ্রিক অবস্থা দেখে মাইলেজ আঁচ করার চেষ্টা করুন।

সার্ভিসিং ও দুর্ঘটনার ইতিহাস

বাইকের পূর্ববর্তী মালিকের কাছ থেকে আগের সার্ভিসিং রেকর্ড বা ডিলারের মেমো চেয়ে নিন। বাইকটি কোনো বড় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল কিনা কিংবা ইঞ্জিনের বড় কোনো যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করা হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। অতিরিক্ত মডিফাইড বা বারবার মেকানিকের কাছে নেওয়া বাইক এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

টায়ারের বর্তমান কন্ডিশন

টায়ারের খাঁজ বা গ্রুভ কতটা ক্ষয়ে গেছে তা লক্ষ্য করুন। টায়ার যদি নতুনের মতো দেখায় অথচ ওডোমিটারে বেশি কিলোমিটার দেখায়, তবে বুঝবেন টায়ার পরিবর্তন করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে রিম ও টায়ারের ফিটিং নিখুঁত আছে কিনা কিংবা কোনো অস্বাভাবিক ফাঁকা জায়গা আছে কিনা, তা ভালো করে দেখে নিন।

স্প্রকেটের ক্ষয় যাচাই

মোটরসাইকেলের চেইন স্প্রকেট (সামনে ও পেছনের দাঁতযুক্ত চাকা) ভালো করে খেয়াল করুন। সাধারণত ১০ থেকে ১৫ হাজার কিলোমিটার চলার পর স্প্রকেটের দাঁতগুলো ক্ষয়ে যেতে শুরু করে। যদি দেখেন স্প্রকেটের দাঁতগুলো অতিরিক্ত ধারালো বা ক্ষয়ে গেছে, তবে বুঝবেন বাইকটি বেশ ভালো রকম চালানো হয়েছে।

ব্রেক ডিস্ক ও প্লেট স্ক্র্যাচ

ব্যবহৃত বাইকের ব্রেক প্যাড যেকোনো সময় সস্তায় বদলে ফেলা যায়, তাই প্যাড না দেখে ব্রেক ডিস্কের ওপর হাত বুলিয়ে পরীক্ষা করুন। ডিস্কের প্রান্ত থেকে ভেতরের দিকে যদি আঙুল দিলে উঁচু-নিচু বা গভীর দাগ অনুভূত হয়, তবে ধরে নিতে হবে ব্রেকটি বহুবার এবং দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়েছে।

ইলেকট্রিক্যাল পার্টস ও ফিচার চেকলিস্ট

বাইকের হেডলাইট, ইন্ডিকেটর, পেছনের টেইললাইট, হর্ন এবং সেলফ স্টার্ট বাটন ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা তা প্রতিটি অন-অফ করে দেখুন। বর্তমানে আধুনিক বাইকগুলোতে অনেক ধরণের সেন্সর ও ইলেকট্রিক ফিচার থাকে, তাই ইন্টারনেটে সেই মডেলের একটি ফিচার চেকলিস্ট দেখে নিয়ে প্রতিটি অপশন মিলিয়ে নিন।

ইঞ্জিন অয়েল এবং কুল্যান্টের রঙ

ইঞ্জিন অয়েলের ক্যাপটি খুলে একটু অয়েল আঙুলে নিয়ে দেখুন। অয়েল যদি খুব বেশি কালচে এবং আঠালো বা ঘন হয়, তবে বুঝবেন দীর্ঘদিন বাইকটির দেখভাল করা হয়নি। ভালো কন্ডিশনের ইঞ্জিন অয়েল দেখতে মধুর মতো বা হালকা সিরাতের মতো মসৃণ হয়। এছাড়া লিকুইড কুলড ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে কুল্যান্টের রঙ যদি দুধের মতো ঘোলাটে দেখায়, তবে বুঝতে হবে ভেতরে লিকেজ রয়েছে।

বাহ্যিক অবয়ব ও চাবির রিং পরীক্ষা

বাইকের হ্যান্ডেলবার, শক-অ্যাবজর্বার (সাসপেনশন), সাইড মিরর এবং সিট কাভার খুঁটিয়ে দেখুন। অনেক সময় বাইকের আসল বয়স লুকানোর চেষ্টা করা হলেও চাবি ঢোকানোর জায়গা বা সিটের নিচের অংশের জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে বাইকটি কতটা যত্নসহকারে চালানো হয়েছে তা স্পষ্ট হয়ে যায়।

টেস্ট রাইড নেওয়া বাধ্যতামূলক

বাইকের সবকিছু বাইরে থেকে নিখুঁত মনে হলেও নিজে না চালিয়ে কখনো কিনতে যাবেন না। অন্তত ২-৩ কিলোমিটার ফাঁকা রাস্তায় টেস্ট রাইড দিন। বাইক চালানোর সময় ব্রেকিং ঠিক আছে কিনা, কর্নারিং বা টার্নিং নেওয়ার সময় ব্যালেন্স কেমন থাকছে এবং ইঞ্জিন থেকে কোনো অস্বাভাবিক শব্দ আসছে কিনা, তা রাইড করলেই বুঝতে পারবেন।

বাজার দর যাচাই ও তুলনা

প্রথম দেখাতেই কোনো বাইক পছন্দ করে টাকা দিয়ে দেবেন না। অনলাইন বা অফলাইন মার্কেটে সমসাময়িক আরও কয়েকটি একই মডেলের বাইকের দাম ও কন্ডিশন তুলনা করুন। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ কোনো মেকানিক বা পরিচিত রাইডারকে সাথে নিয়ে দরদাম করুন।

উল্লেখ্য, একটি ব্যবহৃত মোটরসাইকেল কেনার প্রক্রিয়াটি কিছুটা ধৈর্যের হলেও, এই জরুরি পরীক্ষাগুলো আপনাকে পরবর্তী বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক ভোগান্তি থেকে রক্ষা করবে। একটু সময় নিয়ে যাচাই করলে অল্প বাজেটেই আপনি পেয়ে যেতে পারেন আপনার পছন্দের সেরা বাইকটি।

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি
বিজ্ঞাপন

রাজকীয় স্বাদের ছানার কোপ্তা কারি
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৫৪

আরো