Monday 20 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

জীবিকা ও বরকত বৃদ্ধির উপায়

সারাবাংলা ডেস্ক
১৯ জুলাই ২০২৬ ১৯:৫৮

জীবিকা বা রিজিকের একক মালিক মহান আল্লাহ তাআলা। কার ভাগ্যে কী পরিমাণ সম্পদ থাকবে, তা তিনিই নির্ধারণ করেন। তবে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জানা যায়, মানুষের কিছু শুভ কর্ম ও অভ্যাসের কারণে আল্লাহ তাআলা তার উপার্জনে অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি ও শান্তি দান করেন। বরকত মানে কেবল টাকার পাহাড় নয়; বরং অল্প আয়েও পরম তৃপ্তি, সুস্থতা এবং পারিবারিক সুখের নামই হলো আসল বরকত।

আসুন জেনে নেই, দৈনন্দিন জীবনের এমন কিছু আমল, যা আপনার ভাগ্যের দুয়ার খুলে দিতে পারে…

খোদাভীতি বা তাকওয়ার পথ চলা

যিনি জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সৃষ্টিকর্তার অবাধ্য হওয়াকে ভয় পান, আল্লাহ তার জীবনের সব জটিলতা সহজ করে দেন। এমনকি তিনি তাকে এমন সব অভাবিত মাধ্যম থেকে জীবিকার ব্যবস্থা করে দেন, যা সাধারণ বুদ্ধিতে ভাবাই যায় না।

বিজ্ঞাপন

কুরআনের ঘোষণা:

‘আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ বের করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।’ (সুরা আত-তালাক: আয়াত ২–৩)

সাধ্যমতো পরোপকার ও দানশীলতা

অনেকে ভাবেন দান করলে পকেটের টাকা কমে যাবে। কিন্তু ইসলামের শিক্ষা এর ঠিক উল্টো। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হাত খোলা রাখলে, তিনি সেই শূন্যস্থান আরও উত্তম ও দ্বিগুণ কিছু দিয়ে পূরণ করে দেন।

কুরআনের ঘোষণা:

‘তোমরা যা কিছু ব্যয় করো, তিনি তার পরিবর্তে আরও দান করেন। আর তিনিই সর্বোত্তম রিজিকদাতা।’ (সুরা সাবা: আয়াত ৩৯)

গৃহকোণে সালাত বা নামাজের পরিবেশ গড়া

নামাজ কেবল একটি ফরজ ইবাদতই নয়, এটি ঘরে আল্লাহর রহমত ও রিজিকে বরকত টেনে আনার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি। পরিবারে নামাজের নিয়মিত চর্চা থাকলে অভাব-অনটন দূর হতে বাধ্য।

কুরআনের ঘোষণা:

‘তোমার পরিবারকে নামাজের নির্দেশ দাও এবং এর ওপর অবিচল থাকো। আমি তোমার কাছে রিজিক চাই না; বরং আমিই তোমাকে রিজিক দান করি।’ (সুরা ত্বহা: আয়াত ১৩২)

সম্পূর্ণ সৎ ও বৈধ আয়ের ওপর টিকে থাকা

বরকতময় জীবনের প্রথম শর্ত হলো উপার্জনের সততা। অসৎ বা হারাম পথে কোটি টাকা আয় করলেও তাতে শান্তি থাকে না। পক্ষান্তরে, কষ্টার্জিত অল্প হালাল রুজি মানুষের জীবনে অফুরন্ত কল্যাণ বয়ে আনে।

হাদিসের বাণী:

প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি কেবল পবিত্র (হালাল) জিনিসই গ্রহণ করেন।’ (সহীহ মুসলিম: ১০১৫)

দিন-রাত অনুতপ্ত হৃদয়ে ‘ইস্তিগফার’ করা

অপ্রাপ্তি আর অভাবের একটি বড় কারণ মানুষের অবাধ্যতা ও গুনাহ। নিজের ভুলগুলোর জন্য আল্লাহর দরবারে বারবার ক্ষমা চাইলে বা ইস্তিগফার করলে, তিনি আসমান থেকে রহমতের বৃষ্টি ও সচ্ছলতার দ্বার উন্মুক্ত করে দেন।

কুরআনের ঘোষণা:

‘আমি বলেছিলাম, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে সমৃদ্ধ করবেন।’ (সুরা নুহ: আয়াত ১০–১২)

সুবিধাবঞ্চিত ও বিপন্ন মানুষের ঢাল হওয়া

সমাজের অসহায় ও গরিব মানুষের প্রতি সদয় হওয়া এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো আল্লাহর অত্যন্ত প্রিয় একটি কাজ। একজন মানুষ যখন অন্য মানুষের অভাব দূর করতে ছোটে, সৃষ্টিকর্তা তখন স্বয়ং তার সহায় হন।

হাদিসের বাণী:

আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে, আল্লাহও ততক্ষণ তার সাহায্যে থাকেন।’ (সহীহ মুসলিম: ২৬৯৯)

উল্লেখ্য, দুনিয়ার বুকে আমাদের রিজিকে বরকত পাওয়ার মূল সূত্রই হলো আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা ও সৎ কর্মপ্রচেষ্টা। আমরা যদি উপার্জনের ক্ষেত্রে সততা বজায় রাখি, বেশি বেশি ইস্তিগফার করি এবং চারপাশের অসচ্ছল মানুষের প্রতি হাত বাড়িয়ে দিই, তবে আমাদের জীবন সচ্ছলতা ও শান্তিতে ভরে উঠবে।

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর