বাইকারদের রাইডিংয়ের সময় বাইক বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা হঠাৎ স্টার্ট না নেয়া অত্যন্ত বিরক্তিকর এক অভিজ্ঞতা। আর এই ঝামেলার পেছনে অধিকাংশ সময়ই নীরবে দায়ী থাকে একটি দুর্বল বা নষ্ট স্পার্ক প্লাগ। বাইকের হৃৎপিণ্ড সমতুল্য ইঞ্জিনে সময়মতো স্পার্ক তৈরি করাই এর কাজ। প্লাগটি সঠিক কাজ না করলে বাইকের ফুয়েল ইকোনমি থেকে শুরু করে গতি, সবকিছুতেই বিপর্যয় নেমে আসে।
আসুন জেনে নেই, সহজ যেসব উপসর্গ দেখলেই আপনি ধরে নিতে পারবেন যে আপনার বাইকের স্পার্ক প্লাগটি বদলানোর সময় হয়েছে…
স্টার্ট নিতে বেগ পাওয়া
সকালে বা দীর্ঘক্ষণ বাইক বন্ধ থাকার পর ইঞ্জিন সহজে চালু হতে চায় না? বারবার সেলফ বা কিক দিয়েও যদি ইঞ্জিন সচল করতে না পারেন, তবে ব্যাটারি কিংবা ফুয়েল লাইনের পাশাপাশি স্পার্ক প্লাগে সমস্যা থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
বাইকে মিসফায়ার বা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া
চলন্ত অবস্থায় হুট করে ইঞ্জিন হোঁচট খাওয়া, ধাক্কা মারা কিংবা অস্বাভাবিক ‘টুকটুক’ শব্দ হয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া স্পার্ক প্লাগ দুর্বল হওয়ার স্পষ্ট সংকেত। প্লাগ ঠিকমতো স্পার্ক না করলে জ্বালানি সঠিকভাবে জ্বলতে পারে না।
পিক-আপ বা এক্সিলারেশনে রেসপন্স কমে যাওয়া
থ্রোটল বা এক্সিলারেটর ঘোরালেও যদি বাইক কাঙ্ক্ষিত গতি না পায় এবং গতি তুলতে অলসতা দেখায়, তবে বুঝতে হবে প্লাগটি প্রয়োজনীয় শক্তি তৈরি করতে পারছে না।
মাইলেজ বা জ্বালানি সাশ্রয় কমে যাওয়া
বাইকে হুট করে তেলের খরচ বেড়ে গেছে? ভালো প্লাগ পুরো তেল সঠিকভাবে পুড়িয়ে শক্তি তৈরি করে। কিন্তু প্লাগ ক্ষতিগ্রস্ত হলে জ্বালানির অপচয় হয়, ফলে শক্তি কম পেলেও বাইকে প্রচুর তেল বের হয়ে যায়।
ইঞ্জিন থেকে কালো ধোঁয়া ও বিকট শব্দ
জ্বালানি অসম্পূর্ণভাবে পুড়লে সাইলেন্সর দিয়ে কিছুটা কালো ধোঁয়া বের হতে পারে এবং ইঞ্জিনের স্বাভাবিক সাউন্ডে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
রাইডারদের জন্য প্রয়োজনীয় টিপস
সাধারণত প্রতি ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ কিলোমিটার পরপর প্লাগ চেক করানো বা বদলে ফেলা ভালো। এবং ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব ও নিরবচ্ছিন্ন পারফরম্যান্স পেতে সবসময় বিশ্বস্ত ও ভালো মানের জেনুইন স্পার্ক প্লাগ ব্যবহার করুন।