Thursday 06 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

জীবনের ৮ নেতিবাচক বাধা থেকে বাঁচার দোআ

সারাবাংলা ডেস্ক
৬ আগস্ট ২০২৬ ২০:২০

মানসিক অবসাদ, ভীরুতা কিংবা অলসতা কাটিয়ে জীবনসংগ্রামে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি যোগায় নিয়মিত জিকির ও দোয়া। একজন মুমিনকে সব সময় উদ্যমী, সাহসী ও কর্মঠ হওয়ার তাগিদ দেয় ইসলাম। কর্মবিমুখতা ও হীনম্মন্যতা ত্যাগ করে স্বাবলম্বী জীবন গড়ার লক্ষ্যে রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতিনিয়ত বিশেষ এক দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন।

সাহসী ও শক্তিশালী হওয়ার মাসনুন দোয়া

নবী করিম (সা.) সাহসিকতা ও কর্মোদ্দীপনা অর্জনে নিচের দোয়াটি নিয়মিত পাঠ করার নির্দেশ দিয়েছেন:

উচ্চারণ:

আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিনাল হামমি ওয়াল হুজনি, ওয়া আউজু বিকা মিনাল আজজি ওয়াল কাসালি, ওয়া আউজু বিকা মিনাল জুবনি ওয়াল বুখলি, ওয়া আউজু বিকা মিন গালাবাতিদ দাইনি ওয়া কাহরির রিজাল।

বিজ্ঞাপন

অর্থ:

‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই দুশ্চিন্তা ও শোক থেকে; আশ্রয় চাই অক্ষমতা ও অলসতা থেকে; আশ্রয় চাই ভীরুতা ও কৃপণতা থেকে এবং আশ্রয় চাই ঋণের বোঝা ও মানুষের উৎপীড়ন থেকে।’ (সহিহ বুখারি: ৬৩৬৯)

দোয়ার আটটি মূল বার্তা ও শিক্ষা

এই অর্থবহ দোয়ায় রাসুলুল্লাহ (সা.) একজন মানুষের বিকাশ ও কর্মক্ষমতা বাধাগ্রস্তকারী আটটি চরম নেতিবাচক দিক থেকে সুরক্ষার প্রার্থনা করেছেন, যা দুটি করে চার জোড়ায় বিভক্ত:

দুশ্চিন্তা ও অতীতের শোক (হাম্ম ও হাজান): ‘হাম্ম’ হলো ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ, যা কাজের উদ্যম নষ্ট করে। আর ‘হাজান’ হলো অতীতের ব্যর্থতা বা কষ্টের স্মৃতিতে ডুবে থেকে বর্তমানকে নষ্ট করা। এই দুই অবস্থা মানুষকে মানসিকভাবে দুর্বল করে তোলে।

অক্ষমতা ও অলসতা (আজজ ও কাসাল): ‘আজজ’ হলো শারীরিক বা মানসিক সক্ষমতার অভাব। অন্যদিকে ‘কাসাল’ বা অলসতা হলো সুযোগ ও শক্তি থাকা সত্ত্বেও কাজ করতে গড়িমসি করা। ইসলামে অলসতাকে মারাত্মক মানসিক ব্যাধি হিসেবে দেখা হয়েছে।

ভীরুতা ও কৃপণতা (জুবন ও বুখল): ‘জুবন’ বা ভীরুতা মানুষকে সাহস ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সত্যের পথে চলতে বাধা দেয়। অন্যদিকে ‘বুখল’ বা কৃপণতা মানুষের মনকে সংকুচিত করে তোলে। সাহসী ও প্রগতিশীল হতে এই দুটি দোষ ত্যাগ করা জরুরি।

ঋণের চাপ ও জুলুম (গালাবাতিদ দাইন ও কাহরির রিজাল): অতিরিক্ত ঋণ মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতা হরণ করে ও অন্যের ওপর নির্ভরশীল করে ফেলে। অন্যদিকে মানুষের অন্যায় প্রাধান্য ও জুলুম আত্মসম্মানবোধ ধ্বংস করে।

মানসিক জড়তা কাটিয়ে কর্মজীবনে সাফল্য ও আত্মমর্যাদা অর্জন করতে এই মাসনুন দোয়ার বিকল্প নেই। তাই কেবল মুখে পাঠ করাই নয়, বরং দোয়ার বাস্তব মর্ম উপলব্ধি করে অলসতা ও ভীরুতা পেছনে ফেলে উদ্যমী মনোভাব নিয়ে পথ চলাই হোক প্রতিটি মুমিনের লক্ষ্য।