Sunday 16 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

শিকলে বেঁধে সন্তান পালন!


১৬ জানুয়ারি ২০১৮ ১২:৪০ | আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০১৮ ২২:৩৮
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সারাবাংলা ডেস্ক

বাড়িতে বাচ্চারা থাকলে কম বেশি দুষ্টুমি করে। বড়রা তাদের বকুনি দেয়, অল্প বিস্তর পিটুনিও দেয়। সেই পিটুনি দেওয়া বন্ধ নিয়েও যখন মনোবিজ্ঞানীরা চিন্তিত তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে এমন বাবা-মায়ের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে যারা শিকলে বেঁধে সন্তান লালন পালন করতেন। তাও একজন দুইজন না ১৩ জন ছেলেমেয়ে, যাদের বয়স ২ থেকে ২৯ বছর বয়সের মধ্যে!

ডেভিড অ্যালান ট্রুপিন (৫৭) ও লুইস আনা ট্রুপিন (৪৯) এভাবেই লালন পালন করতেন তাদের ১৩ সন্তানকে। ক্যালিফোর্নিয়ার রিভার সাইড কান্ট্রি শেরিফ ডিপার্টমেন্ট এ কথা জানান আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে।

তার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ট্রুপিনদের ১৭ বছরের এক কন্যা কোনোভাবে তাদের সেই বন্দিশালা থেকে পালিয়ে ৯১১ এ ফোন দেয়। সে দাবী করে তার বাবা মা তাদের শিকলে বেঁধে রাখেন। কাউকে তো শিকল দিয়ে বিছানার সাথে বেঁধে রাখেন। বাড়িতে তার আরও ১২ ভাইবোন বন্দি অবস্থায় আছে।

বিজ্ঞাপন

মেয়েটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ ট্রুপিনদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দেখেন ঘটনার তীব্রতা আরও অনেক বেশি। বিভিন্ন বয়সী অনেকগুলো ছেলে-মেয়েকে অন্ধকার দুর্গন্ধময় জায়গায় শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। তাদের উপর নির্যাতন চালানো হয়। প্রত্যেকেই শীর্ণ দেহী। যদিও দেখতে সবাইকে শিশুই মনে হয় তবে এদের মধ্যে ৭ জন রীতিমতো প্রাপ্ত বয়স্ক।

পুলিশ ট্রুপিনদের ১৩ জন ছেলে মেয়েকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এদিকে ডেভিড ও আনার প্রত্যেককে জামিনের জন্য খরচ করতে হবে ৯০ লাখ মার্কিন ডলার। চাইলেই এখন তারা সহসা মুক্ত হতে পারছে না।

এদিকে বাড়িটিকে দেখানো হয়েছে একটি দিবা স্কুল হিসেবে যেটার প্রিন্সিপ্যাল ডেভিড ট্রুপিন। সেই স্কুলটি ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এতে প্রথম থেকে একাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রী থাকার কথা বলা হয়েছে এবং সরকারি নথি বলছে এটি একটি সক্রিয় স্কুল।

তবে ট্রুপিনদের প্রতিবেশীরা জানায়, তারা শুধু জানে এই বাড়িতে বিশাল এক পরিবার বাস করে। কিন্তু সে পরিবারের সদস্যদের তারা সহসা দেখেনি। কেউ কেউ বলেছেন, তারা সকালে ট্রুপিনদের বাবা-মাকে গ্রেফতার হতে দেখেছে, তখন তারা সন্তানদের দেখতে পেয়েছেন। সন্তানরা অনেক শীর্ণ ও ফ্যাকাসে দেখতে।
একজন প্রতিবেশী বলেন, এটা খুবই ভয়ংকর আমি এটি বিশ্বাস করতে পারি না!

 

সারাবাংলা/এমএ