Sunday 16 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

এখনো চলছে ঈদের ভূরিভোজ? জেনে নিন হজম শক্তি বাড়ানোর কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি

লাইফস্টাইল ডেস্ক
২৪ মার্চ ২০২৬ ১৭:৫৯

ঈদের আনন্দ মানেই তো রসনাবিলাস! সকালের সেমাই থেকে শুরু করে দুপুরের পোলাও-রোস্ট কিংবা বিকেলের ঝাল-মশলাদার চটপটি, সব মিলিয়ে আমাদের পাকস্থলীর ওপর দিয়ে বেশ বড় ধকল যায়। পুরো এক মাস সংযমের পর হুট করে অতিরিক্ত ও তৈলাক্ত খাবার খাওয়ার ফলে অনেকেরই বদহজম, গ্যাস কিংবা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দেয়। তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই; হাতের কাছে থাকা কিছু সাধারণ ঘরোয়া উপায়েই এই অস্বস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

আসুন জেনে নিই পেট হালকা রাখার জাদুকরী কিছু উপায়…

কুসুম গরম পানির জাদু

ভারী বা চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর কুসুম গরম পানি পান করা পরিপাকতন্ত্রের জন্য মহৌষধ। এটি পাকস্থলীকে সচল করে এবং খাবার দ্রুত ভাঙতে সাহায্য করে। খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট পর এক গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করলে পেটের ভারি ভাব ও অস্বস্তি অনেকটাই কেটে যায়।

বিজ্ঞাপন

আদা কিংবা পুদিনার চা

হজমশক্তি বাড়াতে আদা ও পুদিনা পাতার জুড়ি নেই। আদা পাকস্থলীর এনজাইম নিঃসরণ বাড়ায়, যা খাবার হজমে গতি আনে। অন্যদিকে, পুদিনা বা পিপারমিন্ট চা পেটের মোচড়ানো ব্যথা ও গ্যাস কমাতে দারুণ কার্যকর। পেট ফাঁপা লাগলে এক কাপ আদা-পুদিনার চা জাদুর মতো কাজ করতে পারে।

খাওয়ার পর অলসতা নয়, ধীরলয়ে হাঁটা

অনেকেরই ভারী খাবার খাওয়ার পর বিছানায় গা এলিয়ে দেওয়ার অভ্যাস আছে, যা বদহজমের প্রধান কারণ। খাবার খাওয়ার পর অন্তত ১০-১৫ মিনিট ঘরের ভেতরেই ধীরলয়ে পায়চারি করুন। এতে গ্যাস জমতে পারে না। তবে মনে রাখবেন, ভরা পেটে কোনো দৌড়ঝাঁপ বা ভারী ব্যায়াম করা যাবে না।

খাদ্যতালিকায় সহজপাচ্য ফল

পেটে অস্বস্তি থাকলে পরবর্তী নাস্তায় কলা বা আপেলের মতো সহজপাচ্য ফল রাখতে পারেন। কলা পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ করে বুক জ্বালাপোড়া কমায়। তবে বদহজম থাকা অবস্থায় অতিরিক্ত টক জাতীয় ফল এড়িয়ে চলাই ভালো।

খাবারের মাঝে পানির বিরতি

শরীর হাইড্রেট রাখতে পানির বিকল্প নেই। তবে খাওয়ার ঠিক পরপরই পেটপুরে পানি না খেয়ে, দুই খাবারের মাঝখানের সময়টাতে পানির পরিমাণ বাড়ান। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

পাকস্থলীকে বিশ্রাম ও হালকা আহার

একবার পেটে গোলযোগ দেখা দিলে জোর করে ভারী খাবার খাবেন না। পরবর্তী কয়েক বেলা তেল-মসলা ও চর্বিযুক্ত খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলুন। পরিবর্তে পেটকে বিশ্রাম দিতে পাতলা জাও ভাত, নরম খিচুড়ি কিংবা দই-চিঁড়ার মতো সাধারণ খাবার গ্রহণ করুন।

ওষুধ সেবনে সতর্কতা

তীব্র গ্যাসের সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টাসিড বা ওমিপ্রাজল জাতীয় ওষুধ সেবন করতে পারেন। তবে হুটহাট নিজের ইচ্ছেমতো যেকোনো ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থেকে বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

ঘরোয়া পদ্ধতি সাময়িক আরাম দিলেও যদি পেট ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তীব্র বমি বমি ভাব থাকে কিংবা পায়খানায় সমস্যা দেখা দেয়, তবে দেরি না করে দ্রুত রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি