Sunday 16 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সাধ্যের মধ্যে স্বস্তি: কম দামে ভালো এসি কেনার কিছু কার্যকর কৌশল

লাইফস্টাইল ডেস্ক
২৫ মার্চ ২০২৬ ১৬:৩৬

গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কদর বাড়ে এয়ার কন্ডিশনার বা এসির (AC)। অনেকেই এই সময় বাজেটের মধ্যে ভালো এসি কেনার খোঁজ করেন। তবে শুধু কম দাম দেখলেই হবে না; বিদ্যুৎ বিল, স্থায়িত্ব এবং ঘরের মাপের সাথে এসির সক্ষমতা সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তাও দেখা জরুরি। একটু সচেতন হলে এবং সঠিক কৌশল জানা থাকলে কম বাজেটেই কেনা সম্ভব সেরা এসি।

আসুন জেনে নেই কম দামে মানসম্মত এসি কেনার কিছু কার্যকর কৌশল…

ঘরের মাপ অনুযায়ী সঠিক টন (Capacity) নির্বাচন করুন

এসি কেনার আগে ঘরের আয়তন জানা জরুরি। ১০০-১২০ স্কয়ার ফিট ঘরের জন্য ১ টন, ১২০-১৮০ স্কয়ার ফিটের জন্য ১.৫ টন এবং এর চেয়ে বড় ঘরের জন্য ২ টন এসি প্রয়োজন। প্রয়োজন ছাড়াই বেশি টনের এসি কিনলে যেমন কেনার খরচ বাড়বে, তেমনি প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিলও বেশি আসবে।

বিজ্ঞাপন

ইনভার্টার প্রযুক্তিকে প্রাধান্য দিন

নন-ইনভার্টারের চেয়ে ইনভার্টার এসির দাম কিছুটা বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি বেশি সাশ্রয়ী। ইনভার্টার এসি ঘরের তাপমাত্রা অনুযায়ী কম্প্রেসরের গতি নিয়ন্ত্রণ করে, যা বিদ্যুৎ বিল প্রায় ৩০-৫০% পর্যন্ত কমিয়ে আনে। তাই বাজেট একটু বাড়িয়ে হলেও ইনভার্টার কেনা বুদ্ধিমানের কাজ।

‘অফ-সিজন’ বা শীতের শেষে কেনাকাটা করুন

গরমের পিক সিজনে (এপ্রিল-জুলাই) এসির চাহিদা তুঙ্গে থাকে, তাই দামও বেশি থাকে। ফেব্রুয়ারি-মার্চ (গরমের শুরুতে) কিংবা সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে কিনলে কোম্পানিগুলো স্টক ক্লিয়ারেন্সের জন্য ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেয়।

এক্সচেঞ্জ অফার ও ব্যাংক ডিসকাউন্ট খুঁজুন

আজকাল প্রায় সব বড় ব্র্যান্ডই পুরোনো এসি বদলে নতুন এসি নেওয়ার ‘এক্সচেঞ্জ অফার’ দেয়। এছাড়া ক্রেডিট কার্ডে ক্যাশব্যাক, ইএমআই (EMI) সুবিধা এবং উৎসবের বিশেষ ডিসকাউন্ট কুপন ব্যবহার করলে দাম অনেকটাই কমে আসে।

আগের বছরের ফ্ল্যাগশিপ মডেল কিনুন

স্মার্টফোনের মতোই এসির ক্ষেত্রেও নতুন মডেল বাজারে এলে আগের বছরের প্রিমিয়াম মডেলগুলোর দাম কমে যায়। আগের বছরের মডেলেও প্রায় একই ফিচার থাকে, কিন্তু দাম পাওয়া যায় বেশ কম।

এসি কেনার সময় শুধু মেশিনের দাম দেখলে হবে না; এর সাথে ইনস্টলেশন ফি, ফ্রি কপার পাইপ কতটুকু দিচ্ছে এবং আউটডোর স্ট্যান্ডের খরচ কত, তা আগেভাগেই বিক্রেতার কাছ থেকে জেনে নিন।

অনলাইন বনাম অফলাইন দামের তুলনা

কেনার আগে বিভিন্ন ই-কমার্স সাইটে দাম চেক করুন। অনেক সময় অনলাইনে এক্সক্লুসিভ ডিসকাউন্ট থাকে। তবে চূড়ান্ত অর্ডার করার আগে লোকাল শোরুমের দামের সাথে তুলনা করে নিন। অনেক সময় শোরুমে সরাসরি কথা বললে ফ্রি ইনস্টলেশনের সুবিধা পাওয়া যায়।

অতিরিক্ত ফিচার বাদ দিন (যদি প্রয়োজন না হয়)

অনেক এসিতে হট অ্যান্ড কোল্ড (শীতকালে ঘর গরম করার প্রযুক্তি), বিল্ট-ইন ওয়াইফাই বা এয়ার পিউরিফায়ার থাকে। আপনার যদি শুধু ঠান্ডা বাতাসের প্রয়োজন হয়, তবে বেসিক কুলিং এসি বেছে নিন। অতিরিক্ত ফিচারের পেছনে বাড়তি খরচ বাঁচবে।

ব্র্যান্ড ও ব্যবহারকারীর রিভিউ যাচাই

বাজারে এখন অনেক নতুন ব্র্যান্ড কম দামে এসি দিচ্ছে। তবে কেনার আগে ইউটিউব বা সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপগুলো থেকে সেই নির্দিষ্ট মডেলের রিয়েল-ইউজার রিভিউ দেখে নিন।

কমপ্রেসর ও পার্টস ওয়ারেন্টি দেখে নিন

কম দামি এসি কিনতে গিয়ে ওয়ারেন্টির দিকে নজর না দিলে পরে পস্তাতে হবে। অন্তত কম্প্রেসরে ১০ বছরের ওয়ারেন্টি এবং পার্টসে ২-৩ বছরের ওয়ারেন্টি আছে কি না তা নিশ্চিত করুন।

আফটার সেলস সার্ভিস (আফটার সেলস নেটওয়ার্ক)

এসি কেনার পর সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে এর মেইনটেইন্যান্স। যে ব্র্যান্ডের এসি কিনছেন, আপনার এলাকায় তাদের নিজস্ব সার্ভিস সেন্টার আছে কি না এবং তারা দ্রুত সার্ভিস দেয় কি না, তা স্থানীয় গ্রাহকদের কাছ থেকে জেনে নিন।

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি