Sunday 16 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ঈদের লম্বা ছুটিতে ঢাকা ও আশেপাশে ঘুরে বেড়ানো দারুণ জায়গা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
২৬ মে ২০২৬ ১৮:০৬

ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে শহরের কোলাহল ছেড়ে একটু শান্তির খোঁজ করেন অনেকেই। আবার অনেকেই চান ঢাকার ভেতরেই পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে কোয়ালিটি টাইম কাটাতে। ছুটির দিনগুলোকে আনন্দময় করতে ঢাকা এবং এর আশেপাশের বেশকিছু দারুণ জায়গার বিষয়ে জানুন বিস্তারিত:

শেফস টেবিল কোর্টসাইড (মাদানী এভিনিউ)

ঈদের প্রথম দিনের কাজ শেষে বা বিকেলেই যদি একটু অভিজাত ও খোলামেলা পরিবেশে আড্ডা দিতে চান, তবে এটি সেরা জায়গা। প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার বর্গফুটের এই বিশাল জায়গায় আছে বিশ্বমানের সব ফুড কোর্ট।

বিশেষ আকর্ষণ: শিশুদের জন্য মিনি জাঙ্গল ট্রি হাউস, পাইরেট শিপ ও ইনডোর প্লে জোন। গুলশান বা বাড্ডা থেকে মাদানী এভিনিউ হয়ে ইউনাইটেড সিটিতে সহজেই যাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

জিন্দা পার্ক (নারায়ণগঞ্জ, ৩০০ ফিট)

সম্পূর্ণ গ্রাম্য ও নান্দনিক পরিবেশে ঘেরা এক টুকরো সবুজ অরণ্য। ঢাকা থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরের এই পার্কটি ফ্যামিলি পিকনিকের জন্য আদর্শ।

টিকিট ও খরচ: প্রবেশমূল্য বড়দের জন্য ১৫০ টাকা, শিশুদের জন্য ৫০ টাকা। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে ৩০০ ফিট রাস্তা দিয়ে অটোরিকশা বা গাড়িতে সহজেই পৌঁছানো যায়।

উদয়পুর (বেরাইদ, বাড্ডা)

গুলশানের খুব কাছেই শান্ত জলাধার, বিশাল সবুজ মাঠ আর মনকাড়া ল্যান্ডস্কেপের এক অপূর্ব সমন্বয়।

বিশেষ আকর্ষণ: এখানে চমৎকার ক্যান্ডেল লাইট ডিনার এবং সবুজের মাঝে বসে খাবার খাওয়ার সুব্যবস্থা রয়েছে।

এয়ার ফোর্স বেসক্যাম্প (আগারগাঁও)

ঢাকার ভেতরেই যারা একটু রোমাঞ্চ বা অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি পারফেক্ট।

বিশেষ আকর্ষণ: জিপ লাইনিং, ক্লাইম্বিং ওয়াল, ট্রি-টপ অ্যাক্টিভিটি, আর্চারি এবং ক্যাম্পিং টেন্ট।

খরচ ও যাতায়াত: প্যাকেজ শুরু ৪০০ টাকা থেকে। মেট্রোরেলে চেপে আগারগাঁও স্টেশনে নামলেই এই জায়গা।

মাওয়া ঘাট ও পদ্মা পাড় (মুন্সীগঞ্জ)

চমৎকার একটি লং ড্রাইভ আর সেই সাথে নদীর তাজা ইলিশ ভাজার স্বাদ—এই দুইয়ে মিলে মাওয়া ঘাটের কোনো তুলনা নেই।

বিশেষ আকর্ষণ: পদ্মা নদীর বিশালতা, স্পীডবোট বা ট্রলার ভ্রমণ এবং গরম ভাতের সাথে পদ্মার ইলিশ ও হরেক রকম ভর্তা।

প্রাচীন শহর পানাম নগর (সোনারগাঁও)

ইতিহাস ও ঐতিহ্য যাদের টানে, তাদের জন্য এক জীবন্ত জাদুঘর পানাম নগর। শত বছরের পুরনো ভবন আর নির্জন রাস্তা আপনাকে অন্য এক যুগে নিয়ে যাবে। ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড হয়ে সহজেই সোনারগাঁও যাওয়া যায়।

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান (গাজীপুর)

ঢাকা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এই বিশাল শালবন প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাওয়ার এক অনন্য ঠিকানা।

বিশেষ আকর্ষণ: উঁচু উঁচু শালগাছ, বনের ভেতরের লেক এবং সম্পূর্ণ নিরিবিলি বন্য পরিবেশ।

এদিকে যারা ঢাকার বাইরে যেতে চাচ্ছেন না, তারা শহরের ভেতরেই এই চিরচেনা জায়গাগুলো নতুন করে ঘুরে আসতে পারেন:

আহসান মঞ্জিল ও লালবাগ কেল্লা (পুরান ঢাকা)

বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত মুঘল ও নবাব আমলের এই দুই ঐতিহাসিক স্থাপনা ঢাকার প্রধান গৌরব। লালবাগ কেল্লার পরীবিবির মাজার আর আহসান মঞ্জিলের রাজকীয় আসবাব আপনাকে মুগ্ধ করবেই।

বোনাস: ঘোরাঘুরি শেষে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কাচ্চি বিরিয়ানি বা বাকরখানি ও চা ট্রাই করতে ভুলবেন না।

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর (শাহবাগ)

আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি আর প্রাচীন প্রত্নতত্ত্বকে এক ছাদের নিচে দেখতে চাইলে শাহবাগের এই জাদুঘরে চলে আসুন। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পুরো পরিবারের শিক্ষণীয় একটি দিন কাটবে।

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা (মিরপুর)

ঈদের ছুটিতে শিশুদের সবচেয়ে প্রিয় জায়গা এটি। হরেক রকমের পশুপাখি খুব কাছ থেকে দেখার আনন্দ নিতে এখানে প্রতিদিন হাজারো মানুষের ঢল নামে।

রমনা পার্ক ও চন্দ্রিমা উদ্যান

ইট-পাথরের এই শহরের ‘ফুসফুস’ বলা চলে এই পার্কগুলোকে। লেকের পাড়ে বিশাল গাছের ছায়ায় বসে ক্লান্তি দূর করার জন্য এই দুই উদ্যান দারুণ।

হাতিরঝিল (নৈশকালীন সৌন্দর্য)

রাতের ঢাকা দেখতে কেমন? এর উত্তর মিলবে হাতিরঝিলে। আলো ঝলমলে সেতু, লেকের বুকে ওয়াটার ট্যাক্সি ভ্রমণ আর ঠাণ্ডা বাতাস তরুণ-তরুণীদের আড্ডার মূল কেন্দ্র।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা (টিএসসি ও কার্জন হল)

কেন যাবেন: তারুণ্য, আড্ডা আর সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র। কার্জন হলের ব্রিটিশ আমলের লাল ইটের স্থাপত্য এবং টিএসসির মোড়ের চা-আড্ডা আপনার মন ভালো করে দেবে।

রবীন্দ্র সরোবর (ধানমন্ডি)

কেন যাবেন: ধানমন্ডি লেকের পাশে অবস্থিত এই উন্মুক্ত মঞ্চে প্রায়ই নান্দনিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। লেকের পাড়ে বসে হরেক পদের স্ট্রিট ফুড (যেমন: ফুচকা, চটপটি, কাবাব) খাওয়ার জন্য এটি বিখ্যাত।

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো