Sunday 16 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

পোড়া তেলের রান্না নীরব ঘাতক নাকি স্বাদ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
১৫ জুন ২০২৬ ১৮:৩৩ | আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬ ১৯:২০

বাঙালি রান্নায় তেলের ভূমিকা অপরিসীম। তবে প্রায়ই দেখা যায়, পুরি, পেঁয়াজু বা মাছ ভাজার পর কড়াইয়ে বেশ খানিকটা তেল বেঁচে যায়। অপচয় রোধে আমরা অনেকেই সেই তেল রেখে দিই এবং পরবর্তীতে অন্য রান্নায় ব্যবহার করি। কিন্তু একাধিকবার গরম করা এই তেল আমাদের শরীরে কতটা মারাত্মক প্রভাব ফেলছে, তা কি আমরা জানি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, একই তেল বারবার উচ্চ তাপমাত্রায় গরম করলে তাতে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে, যা শরীরকে ধীরে ধীরে বিভিন্ন জটিল রোগের দিকে ঠেলে দেয়।

পোড়া তেল পুনর্ব্যবহার করলে শরীরে যেসব বড় ক্ষতি হতে পারে…

ক্ষতিকর বিষাক্ত যৌগ সৃষ্টি

একই তেল বারবার চুলোয় চড়ালে তাতে ‘HNE’ (Hydroxynonenal)-এর মতো মারাত্মক টক্সিক বা বিষাক্ত যৌগ তৈরি হয়। এই উপাদানটি শরীরের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা নষ্ট করে এবং রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ায়।

বিজ্ঞাপন

খাবারের পুষ্টিগুণ ও স্বাদ ধ্বংস

একবার রান্না করার পর তেলের মধ্যে খাবারের কিছু অদৃশ্য কণা বা অংশ রয়ে যায়। সেই তেল যখন আবার গরম করা হয়, তখন আগের কণাগুলো পুড়ে গিয়ে তেলের আসল পুষ্টিগুণ নষ্ট করে ফেলে। ফলে আপনি যতোই তাজা বা পুষ্টিকর খাবার রান্না করুন না কেন, পোড়া তেলের কারণে তার পুষ্টি ও আসল স্বাদ দুটোই মাটি হয়ে যায়।

তীব্র হজমজনিত সমস্যা ও লিভারের ক্ষতি

ব্যবহৃত তেল দিয়ে রান্না করা খাবার খেলে পেট ফাঁপা, গ্যাস, বুক জ্বালাপোড়া এবং অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে এই তেল খাওয়ার অভ্যাস লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে এবং পাকস্থলীর মারাত্মক ক্ষতি করে।

ক্ষতিকর ট্রান্স ফ্যাটের পরিমাণ বৃদ্ধি

তেল বারবার ফোটানো হলে এর ভালো চর্বিগুলো ভেঙে গিয়ে ক্ষতিকর ‘ট্রান্স ফ্যাট’-এ রূপান্তরিত হয়। এই ট্রান্স ফ্যাট উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার, ধমনিতে ব্লক এবং হৃদরোগের প্রধান কারণ।

ফ্রি র‍্যাডিক্যাল তৈরি ও ক্যানসারের ঝুঁকি

পোড়া তেলে প্রচুর পরিমাণে ‘ফ্রি র‍্যাডিক্যাল’ তৈরি হয়। এই ফ্রি র‍্যাডিক্যাল শরীরের সুস্থ কোষগুলোকে আক্রমণ করে দ্রুত বার্ধক্য ডেকে আনে। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে, দীর্ঘদিন এই ফ্রি র‍্যাডিক্যালযুক্ত তেল ব্যবহারে ফুসফুস ও কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

একান্তই পুনর্ব্যবহার করতে হলে কী করবেন?

যদিও চিকিৎসকরা তেল পুনর্ব্যবহার করতে সম্পূর্ণ নিষেধ করেন, তবে বিশেষ প্রয়োজনে তেলের ক্ষতি কিছুটা কমাতে নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করতে পারেন:

ভালোভাবে ছেঁকে নিন: ভাজাভুজি শেষ হওয়ার পর তেলটি পুরোপুরি ঠান্ডা হতে দিন। এরপর একটি সূক্ষ্ম ছাঁকনি দিয়ে ভালো করে ছেঁকে এয়ারটাইট কাঁচের পাত্রে রাখুন, যেন কোনো খাদ্যকণা অবশিষ্ট না থাকে।

রঙ ও ঘনত্ব পরীক্ষা: পরের বার ব্যবহারের আগে তেলের রঙ খেয়াল করুন। যদি রঙ অতিরিক্ত কালচে দেখায় এবং সাধারণ তেলের চেয়ে বেশি ঘন বা আঠালো মনে হয়, তবে তা সরাসরি ডাস্টবিনে ফেলে দিন।

ডুবো তেলে ভাজবেন না: বেঁচে যাওয়া তেল দিয়ে পুনরায় কোনো কিছু ডুবো তেলে ভাজতে (Deep Fry) যাবেন না। বরং অল্প তেলে সবজি বা তরকারি রান্নায় (Sauté) খুব দ্রুত সেটি শেষ করে ফেলুন।

উল্লেখ্য, খাবার শুধু পেট ভরানোর জন্য নয়, এটি আমাদের শরীরের জ্বালানি। ক্ষতিকর রি-হিট করা বা পোড়া তেল স্ট্রোক, হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো নীরব ঘাতক রোগ ডেকে আনে। তাই দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য রান্নায় তেলের সঠিক পরিমাপ বুঝুন, যেন তেল অপচয়ও না হয় আর স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি না ঘটে। একটুখানি সচেতনতাই পারে আপনার পরিবারকে সুস্থ রাখতে!

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো