কখনো কি হুট করে মোবাইলটা নোটিফিকেশন অফ করে দিয়ে, দৈনন্দিন জঞ্জাল আর পরিচিত গণ্ডির শতশত ‘ফ্রি উপদেশ’ পেছনে ফেলে একা কোথাও হারিয়ে গেছেন! শুনে একটু বুক টিপটিপ করলেও, এই অভিজ্ঞতার চেয়ে থ্রিলিং আর কিছুই হতে পারে না। চেনা রুটিনের বাঁধন ভেঙে কোনো অপরিচিত স্টেশনে নেমে অচেনা গলিঘুঁজিতে দিকভুলে ঘুরে বেড়ানো, কিংবা একদম নতুন কোনো মানুষের সাথে ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চা নিয়ে গল্প জুড়ে দেয়ার নামই তো জীবন! একা একা কাঁধে ব্যাকপ্যাক চাপিয়ে বেরিয়ে পড়া কেবল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া নয়; এটা হলো ভয়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজেকে একদম নতুন করে আবিষ্কার করার এক রাজকীয় অ্যাডভেঞ্চার।
নিজের ‘আসল রূপ’ আবিষ্কার
একা একা ভ্রমণে বের হলে নিজেকে একদম নতুন আলোয় দেখা যায়। নিজের আসল সক্ষমতা আর লুকিয়ে রাখা দুর্বলতাগুলো জলের মতো পরিষ্কার হয়ে ওঠে। অচেনা জায়গায় কোন রেস্তোরাঁয় খাবেন থেকে শুরু করে কোন বাসে উঠবেন, সব সিদ্ধান্তের একক মালিক আপনি নিজেই! তখন আপনি আসলেই বেশ মিশুক, নাকি মনে মনে একাই এক শ’ তা টের পাবেন। জীবনের নানা জটিলতায় হঠাৎ মাথা গরম করেন না কি ঠান্ডা মাথায় সামাল দেন, একা ভ্রমণের সময়ই সেই আসল চেহারাটা বের হয়ে আসে।
একাই যখন সব সমস্যার ‘একাই একশ’
ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা যতই নিখুঁত হোক না কেন, জীবনের গল্পে মোড় আসতে সময় লাগে না! ভুল বাসে উঠে পড়া, হোটেল না পাওয়া কিংবা রাস্তা হারিয়ে ফেলার মতো অদ্ভুত ঝামেলার মুখোমুখি যখন একা হবেন, তখন বুঝবেন আপনি কতটা কাজের মানুষ। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে হুটহাট সিদ্ধান্ত নেওয়ার এবং যেকোনো পরিবেশে এক নিমেষে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জাদুকরী ক্ষমতা এই একা ভ্রমণই শিখিয়ে দেয়। আর নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার এই অভিজ্ঞতা কিন্তু পুরো জীবনজুড়েই দারুণ কাজে আসে।
নিজের রিচার্জের জন্য ‘একলা সফর’
দুনিয়ার তাবৎ কোলাহল, দায়িত্ব আর প্রত্যাশার চাপ থেকে ছুটি নিয়ে মাঝে মাঝে নিজেকে কিছুটা ‘মি-টাইম’ বা ব্যক্তিগত সময় উপহার দেয়া কোনো বিলাসিতা নয়, পরম প্রয়োজন। হৃদকম্পন বাড়িয়ে দেয়া অনভিজ্ঞ কোনো পথ ধরে হাঁটার এই একলা সফর আপনার থমকে যাওয়া জীবনের রং ছাড়িয়ে দেবে। চেনা ছকের বাইরে পা রাখলে বুঝতে পারবেন, পৃথিবীটা কত বড়, আর আপনার ভেতরের সম্ভাবনাগুলো কতখানি বিস্তৃত! তাই আর ভেবে দিন নষ্ট না করে, অন্তত একবারের জন্য হলেও একা একা হারিয়ে যান কোনো অচেনা গন্তব্যে।