একসময় অভিজাত বা বিদেশি ফল হিসেবে পরিচিত থাকলেও ড্রাগন ফল এখন আমাদের দেশে খুবই সহজলভ্য। প্রচুর পরিমাণে আঁশ, ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রয়োজনীয় নানা খনিজে সমৃদ্ধ চমৎকার এই ফলটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে সাহায্য করে। সবসময় কেবল কেটে কেটে ফল না খেয়ে স্বাদ বদলাতে বানিয়ে নিতে পারেন প্রাণজুড়ানো ড্রাগন ফ্রুট মিল্কশেক।
দুধের পুষ্টিগুণের সাথে এই ফলের প্রাকৃতিক উপকারিতা মিলে এটি যেমন তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়, তেমনি পেট ভরিয়ে শরীরকে রাখে চাঙ্গা। মনভুলানো গোলাপি রঙের কারণে বাসার সোনামণিরাও খুব পছন্দ করে এটি পান করবে। সকালের স্বাস্থ্যকর নাশতায় কিংবা বিকেলের হালকা স্ন্যাক্স হিসেবে এটি এক কথায় অনবদ্য।
আসুন জেনে নেই, প্রাণজুড়ানো ড্রাগন ফলের ক্রিমি মিল্কশেক বানানোর সহজ রেসিপি…
যেসব অনুষঙ্গ লাগবে
পাকা ড্রাগন ফল: ১টি
ফ্রিজে রাখা ঠান্ডা দুধ: ১ কাপ
মধু অথবা চিনি: ১-২ চা চামচ (স্বাদমতো)
বরফের কিউব: পছন্দ অনুযায়ী
কাঠবাদাম বা কাজুবাদাম কুচি: ১ টেবিল চামচ
যেভাবে তৈরি করবেন
ফল প্রস্তুতকরণ: ড্রাগন ফলের চামড়া ছাড়িয়ে ভেতরের অংশটি কিউব আকারে টুকরো করে কেটে নিন।
ব্লেন্ড করা: এবার ব্লেন্ডারের জগে ড্রাগন ফলের টুকরো, বরফ, ঠান্ডা দুধ এবং মিষ্টির জন্য মধু বা চিনি একসাথে দিন। মিশ্রণটি একদম ঘন ও মসৃণ হওয়া পর্যন্ত এক থেকে দুই মিনিট ঘুরিয়ে নিন।
সাজিয়ে পরিবেশন: ব্লেন্ড করা শেকটি গ্লাসে ঢেলে নিন। ওপর থেকে কুচানো বাদাম এবং ছোট কয়েক টুকরো ড্রাগন ফল ছড়িয়ে দিলেই পরিবেশনের জন্য তৈরি ঠান্ডা ঠান্ডা ড্রাগন মিল্কশেক!
স্বাদ ও মান বাড়ানোর কয়েকটি স্পেশাল ট্রিকস
বাড়তি রিচ স্বাদ পেতে: শেকটি আরও ঘন করতে চাইলে ব্লেন্ড করার সময় এক স্কুপ ভ্যানিলা আইসক্রিম অথবা ফ্রেশ ক্রিম মিশিয়ে নিতে পারেন।
চিনি ছাড়া স্বাস্থ্যকর রূপ: কৃত্রিম চিনি এড়াতে মিষ্টি হিসেবে খেজুর কিংবা পাকা কলা ব্যবহার করলে এটি যেমন পুষ্টিকর হবে, তেমনি ঘনত্বও বাড়বে।
পানসে ভাব দূর করতে: আলাদা বরফ দিলে শেক কিছুটা পাতলা হতে পারে। তাই আগে থেকেই দুধ খুব ভালোভাবে চিল বা বরফ-শীতল করে রাখলে বাড়তি বরফ লাগবে না।
রং ও উপস্থাপনা: লাল ও সাদা, দুই প্রজাতির ড্রাগন ফল একসাথে মেশালে রঙের শেড দারুণ আসে। পরিবেশনের আগে ওপরে ভেজানো চিয়া সিড বা পুদিনা পাতা ছড়িয়ে দিলে লুক ও পুষ্টি দুটিই বেড়ে যায়।