পাকা চালকুমড়া দিয়ে আমরা অনেকেই প্রথাগত শুকনা মোরব্বা খেয়েছি। তবে ঘরোয়া রান্নায় একটু বৈচিত্র্য এনে এটি দিয়েই বানিয়ে ফেলা যায় অসাধারণ সুস্বাদু ‘চালকুমড়ার মালাই মোরব্বা’। নারিকেলের দুধ আর ঘন ক্ষীরসার সমন্বয়ে তৈরি এই পদটি শেষ পাতে মিষ্টান্ন হিসেবে কিংবা সকালের গরম পরোটা ও লুচির সাথে পরিবেশনে একদম জমকালো অনুভূতি এনে দেয়। যেকোনো বিশেষ দিন বা উৎসবের আয়োজনে অতিথিদের নতুন স্বাদের অভিজ্ঞতা দিতে এটি হতে পারে এক চমৎকার আকর্ষণ।
আসুন জেনে নেই, কম উপাদানে ও সহজ উপায়ে তৈরি এই বিশেষ রেসিপিটি…
প্রয়োজনীয় উপকরণ
পাকা চালকুমড়া: ১টি (মাঝারি আকারের)
ঘন গরুর দুধ: ১ লিটার
নারিকেলের দুধ: ১ কাপ
গুঁড়া দুধ: আধা কাপ
মিষ্টির জন্য: খেজুরের গুড়, আখের গুড় বা চিনি (স্বাদমতো)
আস্ত গরম মসলা: এলাচ, দারুচিনি ও তেজপাতা (২-৩টি করে)
১-২ টেবিল চামচ (হালকা ভাজার জন্য)
প্রস্তুত প্রণালি
চালকুমড়া প্রস্তুতকরণ
পাকা চালকুমড়ার বাইরের শক্ত খোসা ও ভেতরের বীজসহ নরম অংশ ছেঁটে ফেলুন। শক্ত অংশটি পছন্দসই চৌকো আকারে কেটে নিন। এরপর কাটা চামচ বা কাঠি দিয়ে টুকরোগুলো গভীরভাবে কেচে নিন, যাতে ভেতরে রস সহজে ঢুকতে পারে।
ভাপ দেওয়া ও ভাজা
ফুটন্ত পানিতে কেচে রাখা চালকুমড়ার টুকরোগুলো দিয়ে হালকা সেদ্ধ করে নিন। পানি থেকে তুলে ভালো করে চিপে ভেতরের বাড়তি পানি ঝরিয়ে ফেলুন। এরপর কড়াইয়ে সামান্য ঘি গরম করে চালকুমড়ার টুকরোগুলো হালকা আঁচে একটু সাঁতলে (ভাজে) তুলে রাখুন।
মালাই ও ক্ষীরসা তৈরি
অন্য একটি পাত্রে গরুর তরল দুধ, নারিকেলের দুধ ও গুঁড়া দুধ একসাথে মিশিয়ে ফুটতে দিন। এর সাথে এলাচ, দারুচিনি ও তেজপাতা যোগ করুন। মিশ্রণটি ফুটে উঠলে আপনার পছন্দ অনুযায়ী গুড় বা চিনি মিশিয়ে মালাই ঘন করতে থাকুন।
একসাথে রান্না
দুধের মালাই ঘন হয়ে সুন্দর সুবাস বের হলে আগে থেকে ভেজে রাখা চালকুমড়ার টুকরোগুলো এতে ছেড়ে দিন। চুলার আঁচ কমিয়ে আস্তে আস্তে সেদ্ধ হতে দিন, যেন ক্ষীরসার স্বাদ চালকুমড়ার রন্ধ্রে রন্ধ্রে পৌঁছে যায়।
টিপস
চালকুমড়া একদম তুলতুলে নরম হয়ে মালাই গাঢ় ও মাখামাখি রূপ নিলে চুলা থেকে নামিয়ে নিন। হালকা ঠান্ডা হওয়ার পর অথবা ফ্রিজে রেখে কিছুটা চিলড করে পরিবেশন করলে এর স্বাদ বহুগুণ বেড়ে যায়।