ঘরে মিষ্টি বা খোলা খাবার সামান্য সময়ের জন্য রাখা হলেই একঝাঁক পিঁপড়ার আবির্ভাব ঘটে। কেবল খাবার নষ্ট করাই নয়, সুযোগ পেলেই গায়ে কামড় বসিয়ে দেয় পিঁপড়া। সাথে লাল দাগ ও অস্বস্তিকর জ্বালা-যন্ত্রণা তৈরি করে। বাজারে নানা রকমের কীটনাশক পাওয়া গেলেও সেগুলো পরিবারের স্বাস্থ্য ও শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তবে কোনো ধরনের রাসায়নিক ছাড়া হাতের কাছের সামান্য কিছু ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করেই পিঁপড়ার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
আসুন জেনে নেই, পিঁপড়া তাড়ানোর ঘরোয়া পদ্ধতি…
ভিনেগারের দ্রবণ: সমপরিমাণ পানি ও সাদা ভিনেগার একত্রে মিশিয়ে স্প্রে বোতলে ভরে নিন। পিঁপড়ার চলাচলের পথ, দরজার গোড়া ও মেঝের কোণে এটি স্প্রে করলে ভিনেগারের গন্ধে তারা পথ হারিয়ে ফেলে এবং সরে যায়।
তেজপাতার ব্যবহার: তেজপাতার ঝাঁজালো সুবাস পিঁপড়া একেবারেই সহ্য করতে পারে না। কয়েকটি তেজপাতা একটু গুঁড়ো করে রান্নাঘরের কোণে, দরজার গোড়ায় কিংবা চিনির পাত্রের পাশে রেখে দিলে পিঁপড়া ভিড়বে না।
হলুদের গুঁড়া: গুঁড়া হলুদ প্রাকৃতিক প্রতিরোধী হিসেবে কাজ করে। যেসব ফাটল বা প্রবেশপথ দিয়ে ঘরে পিঁপড়া ঢোকে, সেখানে কিছুটা হলুদের গুঁড়া ছিটিয়ে দিলে তারা ভেতরে ঢোকা বন্ধ করে দেয়।
মরিচ ও লবণের মিশ্রণ: পানিতে ১ চামচ লবণ ও ২ চামচ শুকনো মরিচের গুঁড়া ফুটিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। ঠাণ্ডা হওয়ার পর স্প্রে বোতলে ছেঁকে নিয়ে দেয়ালের ধার ও জানালার আনাচে-কানাচে ছিটিয়ে দিলে পিঁপড়ার আক্রমণ কমে যায়।
লেবুর রস ও খোসা: লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড পিঁপড়ার ঘ্রাণশক্তি এলোমেলো করে দেয়। জানালার ফ্রেম, ঘরের কোণা ও রান্নাঘরের স্ল্যাবে তাজা লেবুর রস ছিটিয়ে দিন অথবা লেবুর খোসা ফেলে রাখুন।
প্রাকৃতিক এসব কৌশলের পাশাপাশি রান্নাঘরের বেসিন পরিষ্কার রাখা, মেঝের আর্দ্রতা কমানো এবং খাবারের পাত্র ভালোভাবে আটকে রাখার অভ্যাস গড়লে ঘরে আর কখনোই পিঁপড়ার উপদ্রব হবে না।