Saturday 15 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

প্রশ্ন ফাঁস অভিযোগে ছাত্রশক্তির রংপুর নেতা বহিষ্কার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:২৬

নাহিদ হাসান খন্দকার।

রংপুর: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫-এ প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় ছাত্রশক্তির কিছু নেতার জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় রংপুর মহানগর কমিটির সংগঠক নাহিদ হাসান খন্দকারকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাতে এই বহিষ্কারাদেশ জারি করা হয়, যদিও নাহিদ একই সময়ে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সংগঠনের সব পদ থেকে নিজেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘোষণা দেন।

সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তার দাবি ভিত্তিহীন ও সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী। তবে নাহিদ দাবি করেছেন, তার কাছে ভিডিওসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ রয়েছে এবং এতে ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতাসহ মাস্টারমাইন্ড জড়িত।

বিজ্ঞাপন

নাহিদ হাসান খন্দকারের ফেসবুক পোস্টে (১৩ জানুয়ারি) লেখা হয়, ‘শুনলাম বৈষম্য এবং ছাত্রশক্তির পদধারী কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন এবং কিছুদিন আগে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষাতেও বিভিন্নভাবে প্রশ্নের উত্তর সাপ্লাই করছেন বড় টাকার বিনিময়ে।’

তিনি দাবি করেন, পরীক্ষার সময় তাদের এক কর্মীর মাধ্যমে একটি ভিডিও ক্লিপ পান, যাতে ছাত্রশক্তির জেলা কমিটির এক নেতা প্রশ্নপত্র সরবরাহের প্রস্তাব দিতে দেখা যায়। ভিডিও পাওয়ার পর যিনি তাকে দিয়েছিলেন, তাকে দুই নেতা তুলে নিয়ে হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ।

তিনি বলেন, ‘ছাত্রদল বা শিবিরকে জড়িয়ে অভিযোগ তুললে কিছু বলা হতো না, কিন্তু নিজেদের বিরুদ্ধে সত্য কথা বলায় আমাকে ‘মাইনাস’ করা হয়েছে। এতে অনেক মাস্টারমাইন্ড জড়িত, এবং আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস রয়েছে।’

জাতীয় ছাত্রশক্তির রংপুর মহানগর কমিটির আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহম্মেদ ইমতি জানান, প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ তুলে পোস্ট দেওয়ার পর নাহিদের কাছে প্রমাণ চাওয়া হয়। তিনি যে-সব প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন, সেগুলো যাচাই করে দেখা গেছে যে ছাত্রশক্তির কোনো নেতাকর্মী প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত নন। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সঙ্গে পরামর্শ করে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে, নাহিদ প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ছাত্রশক্তিকে জড়িয়ে ভিত্তিহীন, বানানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ উপস্থাপন করেছেন, যা সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। এটি দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী এবং নীতি-আদর্শের লঙ্ঘন।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫ গত ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়, যাতে ১৪ হাজার ৩৮৫ পদের বিপরীতে ১০ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি প্রার্থী অংশ নেন। পরীক্ষার আগে থেকেই প্রশ্ন ফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ১০০-এরও বেশি জালিয়াতি চক্রের সদস্য ও অসাধু পরীক্ষার্থী আটক হয়েছে। রংপুরে পরীক্ষার আগে দুই জন এবং পরীক্ষার সময় প্রশ্ন ফাঁস চক্রের পাঁচজনসহ মোট ৭ সদস্যকে আটক করা হয়, যাদের কাছ থেকে ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ হয়। নওগাঁয় ৮ জন আটক হয়, যাদের মধ্যে তিনজন মাস্টারমাইন্ড। পরীক্ষার দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে পড়ে, যা পরীক্ষা কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, প্রশ্ন ফাঁসের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং ফলাফল প্রকাশের কাজ চলছে। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর