Sunday 16 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, হাতের টানেই উঠছে পিচ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৪৩

রাস্তার পিচের অবস্থা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সড়কে নিম্নমানের কাজ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, পিচ কার্পেটিংয়ের পরও হাতের টানেই সড়কের অংশ উঠে যাচ্ছে। সমালোচনার মুখে ফাঁকা অংশ রাতারাতি মাটি দিয়ে ভরাট করার ঘটনাও ঘটেছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) নয়াগোলা থেকে মহাডাঙ্গা হয়ে আলীনগর রেলগেট পর্যন্ত ৫ দশমিক ৩ কিলোমিটার সড়কের পুনর্নির্মাণকাজ করছে। পিচ কার্পেটিং ও ব্লক দিয়ে নির্মাণাধীন এ সড়কের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৮৯ লাখ ৪৭ হাজার ৩১১ টাকা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা জানান, গত সপ্তাহে মহাডাঙ্গা থেকে আলীনগর রেলগেইট অংশে পিচ কার্পেটিং করা হয়। তবে আড়াই মিটার প্রশস্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ ফাঁকা রেখেই কাজ শেষ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি নজরে এলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুলও হস্তক্ষেপ করেন।

বিজ্ঞাপন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি সড়কটির নির্মাণকাজ নিয়ে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং নিয়মমাফিক কাজ করার তাগিদ দেন।

অভিযোগ ওঠার পরপরই ঠিকাদার ফাঁকা অংশ ঢাকতে উদ্যোগ নেন। গত ৩ ও ৪ এপ্রিল শ্রমিক দিয়ে সড়কের পাশ থেকে মাটি কেটে ফাঁকা জায়গা ভরাট করা হয়। ৪ এপ্রিল সরেজমিনে গিয়ে শ্রমিকদের এ কাজ করতে দেখা গেছে।

এদিকে, কাজ শেষ হওয়ার দুই দিনের মাথায় মহাডাঙ্গা থেকে আলীনগর রেলগেইটের বিভিন্ন অংশে হাতের টানেই পিচ উঠে যেতে দেখা যায়। ৪ এপ্রিল সকালে হাজির মোড় ও মহাডাঙ্গা রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় তরুণরা হাত ও পায়ের চাপে সড়কের পিচ তুলে ফেলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আলিম বলেন, ‘এলাকার অনেকেই বলাবলি করছে, রাস্তাটি পুলসিরাতের চেয়েও চিকন হয়েছে। সড়কটির একদিকে রেললাইন, আরেকদিকে ডোবা-গর্ত। কিন্তু আগের যে সড়কটি ছিল, সেই পরিমাণ প্রশস্ত করে পিচ কার্পেটিং করা হয়নি। ফলে সড়কটি আরও ছোট হয়ে গেছে। আড়াই মিটার প্রশস্ত সড়কের অনেক জায়গায় ফাঁকা রেখেই কাজ শেষ করা হয়েছে।’

কলেজ শিক্ষার্থী ইয়াসির আরাফাত বলেন, ‘ফাঁকা রেখেই কাজ শেষ করা হলেও এটি নিয়ে যখন আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলো, তখন আবার পাশ থেকে মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হলো। পৌরসভার এলজিইডির কর্মকর্তারা এসব জানার পরেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। কাজের মান খারাপ দেখে কয়েকজন কাজ বন্ধ করার দাবি তুললেও তা আমরা করতে দেইনি। কিন্তু মনে হচ্ছে আমাদেরই ভুল হয়েছে।’

এক স্থানীয় মুদি দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘রাস্তার পিচ কার্পেটিং হওয়ার পরেও কীভাবে এক-দু’দিন পরেও হাতের চাপে উঠে যায়, তা আমাদের বোধগম্য নয়। ফেসবুকে দেখে এমপি নুরুল ইসলাম বুলবুল নিজে ফোন দিয়ে কাজ সঠিক করার কথা বললেও তা মানা হয়নি, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। কোটি টাকার রাস্তা যদি বাচ্চাদের হাতের চাপেই উঠে যাবে, তাহলে এমন রাস্তা তৈরির কী দরকার ছিল?’

তবে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ঠিকাদার সেলিম রেজা বলেন, ‘কাজের মান সঠিক রয়েছে। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। পাবলিক কে কী বলছে তা দেখার দরকার নেই, আমি ঢাকা থেকে এলে আপনি নিজে আমাকে উঠিয়ে দেখায়েন।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী তৌফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কের প্রশস্ততা আড়াই মিটার হলেও পিচ কার্পেটিংয়ের আগেই রোড রোলার চলার সময় প্রস্থ কিছু জায়গায় বেড়ে যায়। তবে আমি নিজে পরিদর্শনে গিয়ে ঠিকাদারকে এসব ছেড়ে দেওয়া অংশ মেরামত করে দিতে বলেছিলাম। পরে তারা তা করেছে। আমি বিভিন্ন কাজের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি, এতে নিম্নমানের কাজের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পিচ কার্পেটিংয়ের কাজও ভালো হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর