Sunday 16 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ভোরে ফুল তুলতে যাওয়া বৃদ্ধকে জবাই করে হত্যা, অভিযুক্তের আত্মসমর্পণ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৩ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৪৪

নিহত বৃদ্ধ কালু বড়ুয়া।

কক্সবাজার: কক্সবাজারের রামু উপজেলায় ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে ঘটেছে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ভোরবেলা জবাই করে হত্যা করা হয় ৬৫ বছর বয়স্ক এক বৃদ্ধকে।

সোমবার (১৩) ভোর পাঁচটার দিকে ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের পূর্ব মেরংলোয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বৃদ্ধের নাম কালু বড়ুয়া।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো সোমবার ভোরে বিহারের জন্য ফুল তুলতে বাড়ির বাইরে বের হন কালু বড়ুয়া। এ সময় অভিযুক্ত টাম্বু বড়ুয়া (প্রকাশ টাবু) হাতে ধারালো দা নিয়ে এলাকায় বাড়িঘর ও দোকানের সামনে ভাঙচুর চালাতে থাকে। হঠাৎ এমন তাণ্ডব দেখে কালু বড়ুয়া এগিয়ে গিয়ে কারণ জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন টাম্বু বড়ুয়া। কোনো কথা না বলেই তিনি কালু বড়ুয়ার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। একপর্যায়ে তার বুকের ওপর বসে গলায় দা চালিয়ে জবাই করে হত্যা করেন। ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত নৃশংস। যা স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্ত টাম্বু বড়ুয়া নিজেই একটি ছুরি নিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, আত্মসমর্পণের সময় তার হাতে থাকা ছুরিটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র নয়। তাদের সন্দেহ, অন্য কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যাটি সংঘটিত হয়েছে এবং সেটি গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে।

নিহতের ছেলে অসিম বড়ুয়া দাবি করেছেন, এ হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন। তাদের ভাষ্য, টাম্বু বড়ুয়ার সঙ্গে কালু বড়ুয়ার আগে কোনো বিরোধ বা শত্রুতা ছিল না। হঠাৎ এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

এদিকে, ঘটনাস্থলে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক উচ্ছ্বাস বড়ুয়া। তিনি জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা লাশ দেখে রামু থানাকে অবহিত করেন এবং ভিডিও ধারণ শুরু করেন। এ সময় প্রান্ত বড়ুয়া (ডংগ্লস) ও বাদল বড়ুয়া (বাদু) মরদেহ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করতে থাকেন। যা তার কাছে সন্দেহজনক মনে হয়।

উচ্ছ্বাস বড়ুয়ার অভিযোগ, তিনি ভিডিও ধারণ করতে গেলে ওই দুজন উত্তেজিত হয়ে তাকে জনসম্মুখে মারধর করেন এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ফুটেজ মুছে ফেলতে বাধ্য করেন। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, হামলাকারীরা আসামিপক্ষের লোক।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিককে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।

স্থানীয়দের একাংশের সন্দেহ, টাম্বু বড়ুয়ার পাশাপাশি প্রান্ত বড়ুয়া ও বাদল বড়ুয়ারও এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তাদের মতে, এসব সন্দেহভাজনকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হবে।

এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ফরিদ নিশ্চিত করেছেন, ‘অভিযুক্ত টাম্বু বড়ুয়া প্রকাশ টাবুকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।’

সারাবাংলা/এএ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর