Saturday 18 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

খান জাহান মাজারের দিঘিতে কুকুরের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৬ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৪২ | আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ২২:২৮

কুকুরকে কুমিরের টেনে নিয়ে যাওয়ার সেই দৃশ্য।

বাগেরহাট: বাগেরহাটের খান জাহান আলী (র)-এর মাজারের দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে মারা যাওয়া কুকুরটির ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল এবং তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে ঠেলে দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বৃগস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জেলা প্রশাসনের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর এসব তথ্য জানা গেছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও বাগেরহাট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিয়া খাতুন বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তদন্ত শেষে আমরা প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। তদন্ত করে কুকুরকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে ছেড়ে দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কুকুরটি দুর্ঘটনাবশত পুকুরে পড়ে যায়। প্রাণীটি নিজেই জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল। কুকুরটি একাধিক মানুষকে কামড় দিয়েছে। মাজারের নিরাপত্তা প্রহরী ফোরকান টিকা নিয়েছেন; হাসপাতাল থেকে আমরা সে প্রমাণও সংগ্রহ করেছি।’

বিজ্ঞাপন

বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ডিএলও) মোহাম্মদ সাহেব আলী বলেন, ‘সিডিআইএল থেকে পাওয়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে ভুগছিল। ওই কুকুর যাদের কামড়িয়েছে, তারাও জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে কুকুর দ্বারা আক্রান্ত সবাই ভ্যাকসিন নিয়েছেন।’

কুমিরটির জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কুমির হিংস্র প্রাণী। তাই তার জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই।’

এর আগে, ১১ এপ্রিল বিকেলে মাজার এলাকায় জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে কুকুরটির ময়নাতদন্ত করা হয়। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরিতে (সিডিআইএল)। গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ এ প্রতিবেদন হাতে পায়।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ‘কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে দেওয়ার কোনো প্রমাণ পায়নি তদন্ত কমিটি।’

প্রসঙ্গত, গত ৮ এপ্রিল বিকেলে মাজারের দিঘির প্রধান ঘাট থেকে একটি কুকুরকে টেনে পানির নিচে নিয়ে যায় কুমির। এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি তদন্তে জেলা প্রশাসন তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর