Sunday 16 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

যশোরবাসীর বঞ্চনা ঘোচাতে রেলমন্ত্রীকে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর চিঠি

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৫৩

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

যশোর: পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-যশোর রেল চলাচল করলেও এখনও কাঙ্ক্ষিত ও পূর্ণাঙ্গ রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বৃহত্তর যশোরবাসী। শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরের পদ্মবিলা স্টেশনে ঢাকা যাওয়ার ট্রেন ধরতে যাওয়া ‘বাস্তবতা বিবর্জিত’। যার কারণে পদ্মবিলা জংশনের পরিবর্তে যশোর জংশন থেকে ঢাকা রুটের ট্রেন চলাচলের দাবি দীর্ঘদিনের।

তবে এবার সেই বঞ্চনার অবসান ঘটাতে যশোরবাসীর দাবি বাস্তবায়নে সরাসরি রেলমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে ডিও লেটার দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। গত ১৫ এপ্রিল রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে দেওয়া ওই চিঠিতে প্রতিমন্ত্রী অমিত যশোরের প্রশাসনিক ও কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেন।

বিজ্ঞাপন

চিঠিতে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, যশোর বিমানবন্দর, বিমান বাহিনীর ঘাঁটি, সেনাবাহিনীর পদাতিক ডিভিশন এবং দেশের প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোলসহ অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র নওয়াপাড়া ও ফুলের রাজধানী গদখালি এই জেলায় অবস্থিত।

২০১৬ সালে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প গৃহীত হলেও, বিগত সরকারের আমলে যশোর সদরকে রহস্যজনকভাবে এই প্রকল্পের মূল পরিকল্পনার বাইরে রাখা হয়েছিল। শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে পদ্মবিলায় গিয়ে ট্রেন ধরার পরিকল্পনায় যশোরবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল। যদিও বর্তমানে বেনাপোল রুটে একটি ট্রেন দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তা কাঙ্ক্ষিত সময়ে চলাচল না করায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমেনি।

যশোরবাসীর পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রী অমিত রেলমন্ত্রীর কাছে চারটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেছেন, ভোরবেলা বেনাপোল থেকে যশোর-নড়াইল-ঢাকা রুটে এবং দর্শনা থেকে একই রুটে আরও একজোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা, যাতে মানুষ দিনে গিয়ে দিনেই ঢাকা থেকে কাজ সেরে ফিরতে পারে। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে ঢাকা-নড়াইল-যশোর রুটে অন্তত একজোড়া লোকাল ট্রেন সংযুক্ত করা। রেলের গতি ও সক্ষমতা বাড়াতে দর্শনা থেকে খুলনা পর্যন্ত ডবল লাইন রেলপথ নির্মাণ করা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে যশোর জেলার সুবিধাজনক কোনো স্টেশনে অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনাল (আইসিডি) স্থাপন করা।

প্রতিমন্ত্রী তার চিঠিতে আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই রুটগুলো সচল করলে বেনাপোল, নওয়াপাড়া, মোবারকগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও দর্শনার বিপুলসংখ্যক যাত্রী পাওয়া সম্ভব হবে, যা সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে। যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ঘুচিয়ে রেল যোগাযোগে নতুন দিগন্ত উন্মোচনে প্রতিমন্ত্রীর এই ব্যক্তিগত উদ্যোগকে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ সাধুবাদ জানিয়েছেন।

জানা যায়, ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর বহুল কাঙ্ক্ষিত পদ্মা রেল সেতু উদ্বোধন করেন তৎকালীন সরকার। ট্রেন চালু হওয়াতে যশোর থেকে ঢাকার দূরত্ব কমেছে ১৯৩ কিলোমিটার। এই রেললিংক প্রকল্পে যশোর থেকে ৩ ঘণ্টায় ঢাকায় যাচ্ছেন। বৃহত্তর যশোরবাসীকে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকায় যাওয়ার জন্য ট্রেনে উঠতে হবে শহরের মূল স্টেশন থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরের পদ্মবিলা স্টেশন থেকে। স্টেশনটির অবস্থান বেনাপোল থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর স্টেশন থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে। এ অঞ্চলের মানুষকে ট্রেনে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকায় যেতে হলে ১৮-৪৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পদ্মবিলা স্টেশনে যেতে হবে। তাই ভোগান্তি লাঘবে পদ্মা সেতুর রুটের সঙ্গে বেনাপোল, যশোর, দর্শনা ও কোটচাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশন সংযুক্ত করার দাবি তাদের।

এই বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও প্রাণের দাবি ভোরবেলা ঢাকা যাওয়ার ট্রেন। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে এই যশোরকে ঘিরে রেলের বড় পরিকল্পনা থাকলেও অতীতে বরাবরই এ ধরনের অনেক বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে এই জেলাকে। এখন জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের রেলমন্ত্রীর কাছে বৃহত্তর যশোরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে যশোরের সন্তান হিসাবে আমি যৌক্তিক দাবিটি বাস্তবায়নে অনুরোধ জানিয়েছি।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর