Wednesday 01 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

এলইডি স্ক্রিনের সামনে বসা নিয়ে রাকসু জিএসের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৮ জুন ২০২৬ ১৬:০৮ | আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ২০:১৪

রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার।

রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে নবাব আব্দুল লতিফ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নুরুল ইসলাম শহিদকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) বিতর্কিত জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে।

বুধবার (১৭ জুন) রাত ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ করেন নুরুল ইসলাম শহিদ।

ফেসবুক পোস্টে শহিদ দাবি করেন, আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ উপলক্ষ্যে তিনি ও তার হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী হবিবুর রহমান হল মাঠে খেলা দেখতে যান। খেলার প্রায় ৩০-৩১ মিনিটের সময় রাকসুর ভিপি মুস্তাকুর রহমান জাহিদ এবং হবিবুর রহমান হল সংসদের জিএস আশিক শিকদার তাকে তাদের পাশে বসে খেলা দেখার জন্য ডাকেন। পরে তিনি এলইডি স্ক্রিনের পাশে সুতা দিয়ে ঘেরা নির্ধারিত স্থানে গিয়ে ভিপির পাশে বসেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, খেলা শুরুর প্রায় এক মিনিট পর রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও সহ-ক্রীড়া সম্পাদক আবু সাঈদ সামি সেখানে আসেন। এ সময় ভিপি একটি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিতে স্থান ত্যাগ করলে আম্মার তাকে ওই স্থান থেকে সরে যেতে বলেন। কারণ জানতে চাইলে আম্মার তার টি-শার্টের কলার ধরে টানাটানি করেন এবং সেখানে কেউ থাকতে পারবে না বলে জানান। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক দড়ির ভেতরের স্থান থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পোস্টে শহিদ আরও উল্লেখ করেন, এ ঘটনার পর কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ভিপি ঘটনাস্থলে ফিরে আসেন। তখন তিনি ভবিষ্যতে রাকসুর কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণে অনাগ্রহের কথা জানান। পরে ভিপি তাকে অন্যত্র নিয়ে যান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রত্যক্ষদর্শী রাকসুর সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক আবু সাঈদ নূন বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম, তবে মূলত কী ঘটেছিল তা আমি জানি না। কারণ আমি স্ক্রিনের পাশে বক্সের একদম সামনে অবস্থান করছিলাম। সেখানে কী কথা হয়েছে বা কোনো গালাগালির ঘটনা ঘটেছে কি না, তা আমি স্পষ্টভাবে শুনতে পাইনি। তখন আমার মনে হয়েছিল, হয়তো সামান্য কোনো ঝামেলা হয়েছে। পরে কিছুক্ষণ আগে আমি তার (শহীদ) পোস্টটি দেখতে পাই।’

তবে মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি বলেন, ‘রাকসুর আয়োজনে খেলা দেখানো হয়েছে, সেখানে সবাই সমান। শৃঙ্খলার বিষয়ে গতবারের থেকে শিক্ষা নিয়ে চেষ্টা করেছি, কোনো ঝামেলা ছাড়াই আয়োজন সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার। আমাদের বোনেরা স্ক্রিনের বামপাশে বসেছিল। এখানে সামনে কেউ দাঁড়ালে আমাদের বোনেরা দেখতে পারছিল না। দায়িত্বের খাতিরে আমি এখানে ভিতরে এক কোণায় দাড়িয়ে ছিলাম, আর কাউকে এখানে আসতে দিচ্ছিলাম না। তাই আমি তাকে স্ক্রিনের ডানপাশে ভিপির পাশে গিয়ে বসতে বলি। সে সেখান থেকে বের হয়ে গালি দিতে দিতে চলে যায়।’

আম্মার আরও বলেন, ‘দায়িত্ব নিয়ে বলছি, আমি তার গায়ে স্পর্শই করিনি। একবারের জন্যও তার টি-শার্টে হাত দেইনি এবং সে যে পরিমাণ বাজে ভাষা ব্যবহার করেছে, আমি টুঁ শব্দটিও করিনি। আয়োজন সুন্দর করার ক্ষেত্রে কোনো কম্প্রোমাইজ নাই। এখানে সে কেন, রাকসু ভিপিকে অনুরোধ করে ডানপাশে বসিয়েছি, যাতে বামদিকের বোনেরা খেলা দেখতে পারে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর