Monday 27 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

আম্মারসহ ২ নেতার ওপর সাবেক ‘ছাত্রলীগ কর্মী’র হামলা ঘিরে রাবিতে উত্তেজনা

রাবি করেসপন্ডেন্ট
২৭ জুলাই ২০২৬ ১৯:২৪

রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) কার্যালয়ে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারসহ দুই নেতার ওপর এক সাবেক ‘ছাত্রলীগ কর্মী’র হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দিনভর উত্তপ্ত ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাস।

এ ঘটনাকে ঘিরে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে। পরে অভিযুক্তকে পুলিশে না দিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়ায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে অভিযুক্তকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে মারধরের ঘটনাও ঘটে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের এক ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের আল্টিমেটামও দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু ভবন ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, নারীঘটিত এক ইস্যুতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক কর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমানের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরে তার মোবাইল ফোন তল্লাশি করে তাকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে শনাক্ত করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করেন রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও তার সঙ্গে থাকা শিক্ষার্থীরা। উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে মারধর করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দফতর সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী ছাত্রদল কর্মী মহসিন আলমের বিরুদ্ধে প্রক্টর দফতরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের বিষয়ে আলোচনা করতে প্রক্টর দফতরে আসেন সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ও বর্তমানে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আনাস।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এ সময় প্রক্টরের সঙ্গে আনাসের বাকবিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রক্টর তাকে দফতর থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।

পরে আজ দুপুর ১২টার দিকে অভিযোগের বিষয়ে মহসিন আলমের বক্তব্য ও স্বীকারোক্তি নেওয়ার জন্য তাকে প্রক্টর দফতরে তলব করা হয়। এ সময়ও আনাস সেখানে উপস্থিত হন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি আবারও প্রক্টরের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার তাকে মারধর করেন।

এর কিছুক্ষণ পর আনাস কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে রাকসু কার্যালয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এতে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও সহ-বিজ্ঞান সম্পাদক নাজমুস সাকিব আহত হন। পরে উভয় পক্ষ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এলাকায় মুখোমুখি হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ওই সময় আহত হওয়া রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব বলেন, ‘প্রক্টর অফিস থেকে যাবার পরে খুব বেশি দেরি করেনি ওরা। ৪/৫ মিনিটের মধ্যে তারা রাকসু ভবনে আসে। ওদের মধ্যে থেকে একজন আম্মারকে জিজ্ঞেস করে ‘তুই ওর গায়ে হাত দিছিস কেনো?’ তখন আম্মার বলে, ‘আপনি কী কোনো অথোরিটির নাকি যে আপনার কাছে প্রশ্নের জবাব দিতে হবে?’ এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে ওরা আম্মারের ওপর হামলা করে এবং আমি ওদেরকে ফেরাতে গিয়ে ওরা আমার ওপর হামলা করে রক্তাক্ত করে। ছাত্রলীগের আনাস ও তার সঙ্গে ৭-৮ জন সাঙ্গপাঙ্গরা মিলে এ ঘটনা ঘটায়।’

রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘তারা ৬-৭ জন হঠাৎ করেই কোনো ধরনের কথা না বলে আমাদের ওপর হামলা চালায়। তখন রাকসু কার্যালয়ের ভেতরে আমরা মাত্র তিনজন ছিলাম। হামলায় আমাদের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক গুরুতর আহত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই আজকের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা খুব দ্রুত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। আজকের মধ্যেই আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানাব।’

সারাবাংলা/এনএমই/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর