Wednesday 01 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবিতে মধ্যরাতে আন্দোলনে বেরোবির ছাত্রীরা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২২ জুন ২০২৬ ০৩:১৮ | আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ ০৯:৫৭

প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবিতে মধ্যরাতে বেরোবির ছাত্রীরা ভিসির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করে। ছবি: সংগৃহীত

রংপুর: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল শহীদ ফেলানী হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা বন্ধ ডাইনিং চালু, রিডিং রুমের সংকট সমাধান ও হিটার উচ্ছেদের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন।

রোববার (২১ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা প্রভোস্ট সিফাত রুমানার পদত্যাগ দাবি করেন। পরে রাত ১টার দিকে দাবি পূরণের আশ্বাসে আন্দোলন থেকে সরে আসেন তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে হলের ডাইনিং বন্ধ থাকায় খাবারের তীব্র সংকট, অপর্যাপ্ত রিডিং রুম ও রান্নায় ব্যবহৃত হিটার সরিয়ে নেওয়ায় দুর্ভোগ পৌঁছায় ছাত্রীদের। এর প্রতিবাদে রাতে তারা ভিসি ভবনের সামনে জড়ো হন এবং ‘প্রভোস্ট পদত্যাগ’, ‘ডাইনিং চালু করো’, ‘হিটার ফিরিয়ে দাও’—সহ বিভিন্ন স্লোগান তোলেন।

বিজ্ঞাপন

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী নাদিয়া আক্তার বলেন, “প্রায় এক মাস ধরে হলের ডাইনিং বন্ধ। আমরা খাবার পাচ্ছি না, তাই কষ্ট করে রান্না করে খাচ্ছি। রিডিং রুমে আসনসংখ্যা অপ্রতুল, পড়াশোনা করতে পারছি না। আর শীতের মধ্যে হিটার সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমাদের এসব সমস্যার কথা কাউকে বলারও সুযোগ নেই। প্রভোস্ট আমাদের কোনো দিকেই গুরুত্ব দেন না, তাই আমরা তার পদত্যাগ দাবি করছি।”

আরেক শিক্ষার্থী তাসনিম জাহান বলেন, “আমরা বারবার আবেদন করেছি, কিন্তু প্রভোস্ট আমাদের কথা শোনেননি। তাই বাধ্য হয়েই আমরা ভিসি ভবনের সামনে এসেছি। তিনি (প্রভোস্ট) যদি এখানে আসতেন, তবে আমরা সরাসরি তার সঙ্গে কথা বলতে পারতাম। কিন্তু তিনি আসেননি।”

আন্দোলনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার ফেরদৌস রহমান। তিনি ছাত্রীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং তাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দেন। প্রক্টর ফেরদৌস রহমান বলেন, “আমি ছাত্রীদের কথা শুনেছি। খুব দ্রুতই বন্ধ ডাইনিং চালু করা হবে এবং রিডিং রুম সংস্কার করে দেওয়া হবে। তবে হিটার ব্যবহারের দাবিটি অযৌক্তিক, বিকল্প ব্যবস্থা ভাবার চেষ্টা করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি তাদের আশ্বস্ত করেছি যে, সমস্যাগুলো সমাধানে প্রশাসন কাজ করছে। তারা যাতে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়, সেজন্য অনুরোধ জানাই।”

ঘটনার পুরো সময়কালে প্রভোস্ট সিফাত রুমানা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তার কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। প্রক্টর ফেরদৌস রহমান ছাত্রীদের আশ্বাস দিলে তারা আপাতত আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন। তবে তারা জানান, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আবারও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রভোস্ট অসুস্থতার কারণে ঘটনাস্থলে আসতে পারেননি। তবে তার পক্ষ থেকে ছাত্রীদের সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আন্দোলন প্রত্যাহার করলেও ছাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা মনে করছেন, প্রশাসনের আশ্বাস যাতে ফাঁকি না হয়, সেদিকে নজর রাখবেন তারা।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর