Tuesday 18 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রংপুরের দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কে ধস, যোগাযোগ বিপর্যয়ের শঙ্কা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩০ জুন ২০২৬ ২০:২৫

সড়কে ধস।

রংপুর: টানা বর্ষণ ও দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কের একাধিক স্থানে ধস, বড় গর্ত ও ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত হতে পারে।

রংপুর অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ দ্বিতীয় তিস্তা সেতু-কাকিনা আঞ্চলিক সড়কটি বুড়িরহাট ও মহিপুর হয়ে লালমনিরহাটের কাকিনা, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও তুষভাণ্ডার অতিক্রম করে বুড়িমারী স্থলবন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত। উত্তরাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা ও সাধারণ মানুষের চলাচলে সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও জমে থাকা পানির কারণে উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের মহিপুর এলাকায় দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর উত্তর প্রান্তে সড়কের অন্তত ১৫টি স্থানে ধস ও বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও পিচ উঠে গিয়ে সড়ক দেবে গেছে। এতে ভারী যানবাহনের পাশাপাশি ছোটো যানবাহন ও মোটরসাইকেলের চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত অংশে অধিকাংশ যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। কয়েকটি স্থানে চালকেরা বিপরীত পাশ ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতে গর্তগুলো স্পষ্ট দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।

সেতু-সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান মিয়া বলেন, ‘কয়েকদিনের বৃষ্টির পর হঠাৎ করেই রাস্তার কয়েক জায়গা দেবে যেতে শুরু করে। এখন বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন এত মানুষ চলাচল করে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।’

পথচারী মাহমুদ মিয়া বলেন, ‘সড়কটির অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। কয়েক জায়গায় ধসে খোয়া উঠে গেছে। আরও বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভারী যানবাহনের চাপ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, ‘এটি শুধু একটি স্থানীয় সড়ক নয়, রংপুর ও লালমনিরহাট অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সড়কের নিচের মাটি ধসে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে সড়ক দেবে গেছে। দ্রুত কাজ শুরু না হলে ভবিষ্যতে বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘ধসের বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেরামত কাজ শুরুর প্রস্তুতি চলছে।’

স্থানীয়দের দাবি, সাময়িক মেরামতের পাশাপাশি সড়কের গঠনগত দুর্বলতা চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সংস্কার করতে হবে। তাদের আশঙ্কা, তা না হলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই ধরনের সংকট দেখা দেবে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালেও দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কে একই ধরনের ধসের ঘটনা ঘটেছিল। উদ্বোধনের মাত্র দুইদিন আগে ওই ধসে সড়কপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

সারাবাংলা/এআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর