Tuesday 18 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মানহানি মামলায় সাংবাদিক গ্রেফতার, ২৪ ঘণ্টা পরও তোলা হয়নি আদালতে

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২ জুলাই ২০২৬ ১৬:৩৮ | আপডেট: ২ জুলাই ২০২৬ ১৭:৩৪

মুরাদনগর থানা, কুমিল্লা।

কুমিল্লা: কুমিল্লার মুরাদনগরে মানহানির মামলায় স্থানীয় সাংবাদিক ও মুরাদনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম আরিফকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে গ্রেফতারের প্রায় ২৪ ঘণ্টা অতিক্রম হলেও তাকে আদালতে হাজির না করায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ ও নানা আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে উপজেলার গাইঢুলি এলাকা থেকে মাহবুব আলম আরিফকে গ্রেফতার করে মুরাদনগর থানা পুলিশ।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, আদালতে পাঠাতে বিলম্বের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। অভিযোগ রয়েছে, তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলায় জড়ানোর চেষ্টা চলছে, যাতে জামিন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৭ জুন রাতে ‘হিন্দু নারীকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণ’ শিরোনামে মুরাদনগর লাইভ টিভি নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ফজর আলীকে বিএনপির নেতা হিসেবে উল্লেখ করে মাহবুব আলম আরিফ তার পরিচালিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সংবাদটি প্রকাশ করেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৯ জুলাই মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১১ নম্বর আমলি আদালতে এক হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক অভিযোগটি আমলে নিয়ে মাহবুব আলম আরিফের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। পরবর্তীতে ওই মামলার ওয়ারেন্টের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

মাহবুব আলম আরিফ উপজেলার সদর এলাকার মৃত মনিরুল হকের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দৈনিক আজকের পত্রিকা, মানবকণ্ঠ এবং স্থানীয় আজকের কুমিল্লা পত্রিকার মুরাদনগর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা করে আসছেন।

গ্রেফতারের পর বুধবার বিকেলে মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে আদালতের ওয়ারেন্ট ছিল। সে সাংবাদিক, এ বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। ওয়ারেন্ট থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

তবে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত তাকে আদালতে না পাঠানোর কারণ জানতে ওসির মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এদিকে, স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি অংশ ওসির বক্তব্যকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের দাবি, মাহবুব আলম আরিফ মুরাদনগরের পরিচিত সাংবাদিক এবং তার পেশাগত পরিচয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অজানা থাকার বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য নয়। তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক কারণে তাকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। মামলায় উত্থাপিত অভিযোগ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানির দাবির বিষয়ে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়াই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর