নাটোর: জেলার পৃথক দুইটি চুরির ঘটনায় জড়িত চোরচক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় চুরি হওয়া একটি পালসার মোটরসাইকেল ও একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. ইফতেখার আলম, ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল নজরুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।
গ্রেফতার ৬ জন হলেন- হাসান আলী (২৬), স্বাধীন প্রামাণিক (২৭), হেলাল সরদার (৪৬), নাঈম ইসলাম (২৮), স্বপন বাবু (২৮) এবং আরিফুল ইসলাম (৩২)। তাদের বাড়ি জেলার সদর, সিংড়া ও গুরুদাসপুর উপজেলায়।
পুলিশ সুপার জানান, গত ৩০ জুন বিকেলে নাটোর সদর উপজেলার গাওপাড়া ঢালান এলাকার ‘সোহেল মোটরস’ শোরুমে এক ব্যক্তি ক্রেতা সেজে ট্রায়াল দেওয়ার নাম করে একটি পালসার মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ১ জুলাই নাটোর থানায় একটি মামলা করা হয়।
মামলাটি ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পর আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার (৫ জুলাই) রাতে দিঘাপতিয়া ইউনিয়নের মদনহাট এলাকার একটি বাঁশঝাড় থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে গত ১৯ জুন সন্ধ্যায় একই এলাকার (গাওপাড়া ঢালান বাজার) রাস্তার পাশ থেকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান চুরি হয়। এ ঘটনায় ৫ জুলাই নাটোর থানায় আরেকটি মামলা হলে ডিবি পুলিশ তদন্তে নামে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্বাধীন প্রামাণিক ও হাসান আলীকে গ্রেফতার করা হয়।
তাদের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে সিংড়া উপজেলার চামারী সোনাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে হেলাল সরদার ও নাঈম ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, চুরি করা অটোভ্যানটি কিনেছিলেন স্বপন বাবু। পরে সিংড়া উপজেলার কালিকাপুর গ্রাম থেকে স্বপনকে আটক করে তার বাড়ির সামনে থেকে অটোভ্যানটি জব্দ করা হয়। তিনি আরও জানান, এদের মধ্যে অন্যতম পেশাদার চোর হেলাল, তার ৩৬ বছর চুরি জীবনে কখনোই কোন প্রশাসনের হাতে ধরা পড়ে নাই,
এই প্রথমবার তাকে আমরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি।
পুলিশ সুপার আরও জানান, অভিযুক্তরা দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন কৌশলে যানবাহন চুরি ও কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে এবং এ চক্রে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর গ্রেফতার ৬ জনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।