নরসিংদী: জেলায় দুই জা’র পারিবারিক কলহের জেরে ২ মাসের শিশুর ওপর অমানবিক নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ২ মাসের এক শিশু রিজিক-কে খাটে শুইয়ে রেখে বাইরে যান মা। মুহূর্তের মধ্যেই অপর এক নারী এসে শিশুটির পায়ে সজোরে মোচড় দিয়ে রুম ত্যাগ করেন।
জানা গেছে, শিশুটি সদর উপজেলার পাইকারদী গ্রামের জহিরুল হক ও গৃহবধূ সায়েবা বেগমের দ্বিতীয় ছেলে সন্তান রিজিক (২ মাস)। জন্ম নেওয়ার পর থেকেই শিশুটির সাথে প্রায় প্রতিদিন নানা ধরনের নিষ্ঠুরতা ঘটত বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায়শই শিশুটিকে ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে মা ঘরের কাজে বাইরে গেলে বা বাথরুমে গেলে শিশুটি তীব্র চিৎকারে কেঁদে উঠতো। দিনের পর দিন এমন অস্বাভাবিক কান্নার কারণে মা সায়েবার মনে সন্দেহ হলে রোববার (১২ জুলাই) কৌশলে মোবাইল ফোনের ভিডিও চালু করে রুম ত্যাগ করেন তিনি। পরক্ষণেই দেখা গেছে শিশুটির চাচি লতা বেগম রুমে এসে তার পায়ে মোচড় দিয়ে দ্রুত রুম ত্যাগ করেন।
ভিডিওতে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ঠান্ডাজনিত রোগে কিছুটা অসুস্থ রয়েছে শিশুটি। তবে দুই জা’র পারিবারিক কলহের জের ধরে শিশুর প্রতি এমন অমানবিক এই নির্যাতন কাম্য নয় কারোই। এলাকাবাসী বলছেন, পরিবারে দুই ভাইয়ের মধ্যে যথেষ্ট মিল রয়েছে। তবে দুই জায়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকতে পারে। সেটি হলেও শিশুর ওপর পাশবিক এই নির্যাতন কাম্য নয়।
শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এখন ছেলে (শিশু) সুস্থ রয়েছে। তুচ্ছ ঘটনায় দুই বধূর কথাকাটাকাটি নিয়ে কিছুটা মনোমালিন্য ছিল। হয়ত সেই ক্ষোভ থেকেই এটি তিনি (লতা) করেছেন। আমরা পারিবারিকভাবে বসে এই সমস্যা সমাধান করেছি। শিশুটির মা-ও পারিবারিক চাপেই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
মাধবদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন জানান, ভিডিও ভাইরাল হলে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পারিবারিকভাবে তারা বিষয়টি সমাধানের কথা বললেও অভিযুক্ত নারীকে খোঁজা হচ্ছে। তাকে আটক করে আইনের মাধ্যমেই এই বিষয়টি সমাধান করা হবে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।
এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহল এই অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্ত নারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।