Wednesday 22 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বাবা-ভাইসহ এনসিপি নেতা কাফির বিরুদ্ধে জমি দখল ও চাঁদাবাজির মামলা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২২ জুলাই ২০২৬ ১৫:০০

এনসিপি নেতা নুরুজ্জামান কাফি।

পটুয়াখালী: কলাপাড়ায় আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও এনসিপি নেতা নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা ও বড় ভাইয়ের নামে জমি দখল ও চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম কলাপাড়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

আদালত এ মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য কলাপাড়া থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুলাই সকাল সোয়া দশটার দিকে রজাপাড়া গ্রামের নুরুজ্জামান কাফি, তার পিতা এবিএম হাবিবুর রহমান ও বড়ো ভাই মামুন মাটি কাটার ভেকু, মেশিন, ভ্যান, কোদাল এবং খোয়া নিয়ে খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জমিতে প্রবেশ করেন। পরে জমির মাটি কেটে আকার-আকৃতি পরিবর্তন করে চলাচলের রাস্তা তৈরির চেষ্টা করেন।

বিজ্ঞাপন

খবর পেয়ে ওই বিদ্যালয়ের ৫ জন সহকারী শিক্ষক নিয়ে প্রধান শিক্ষক ঘটনাস্থলে যান এবং রাস্তা তৈরিতে বাধা দেন। এতে কাফি ক্ষিপ্ত হয়ে আবদুর রহিমের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সে সব শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং ধাক্কাধাক্কি করে তাদের খুন জখমের ভয়ভীতি দেখান। পরে কাফি, তার পিতা ও বড় ভাই ১১০ ফুট দৈর্ঘ্যের ও ৩০ ফুট প্রস্থের প্রায় ৬ শতাংশ জমির অন্তত এক লাখ টাকার মাটি কেটে ট্রলি গাড়িতে নিয়ে বাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় স্তূপ করে রাখেন। এবং ওই জমিতে ছোট ছোট কঙ্কর পাথর ফেলে রাস্তা তৈরি করে। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে আবদুর রহিম মামলায় উল্লেখ করেন।

আবদুর রহিম বলেন, কলাপাড়ার মোট ২১.৭৬ একর জমির মালিক খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন যাবৎ শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখলে থেকে সরকারি খাসজমিসহ নির্ধারিত সীমানায় অবস্থান করে আসছে। ঘটনার পরে আমি তাদের সঙ্গে স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করি। কিন্তু কাফিসহ তার পরিবার মীমাংসায় রাজি হয়নি। পরে আমি কলাপাড়া থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ আমাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন। বিদ্যালয়ের জমিজমা রক্ষার্থে আমি ন্যায় বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে নুরুজ্জামান কাফি বলেন, এ জমির ওয়ারিশগণ দীর্ঘদিন মামলা চালিয়ে সুপ্রিম কোর্ট থেকে রায় পেয়েছেন। তাদের কাছ থেকে আমি জমিটি কিনেছি। মালিকপক্ষ জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর আমি রাস্তা নির্মাণ করি। স্কুলের প্রধান শিক্ষক রহিম স্যারের সঙ্গে আমার দেখা হয়নি এবং কথাও হয়নি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করলেই এর আসল সত্য বেরিয়ে আসবে।

কলাপাড়া আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো: ফেরদৌস মিয়া বলেন, মামলাটি রুজু করা হয়েছে। ওসি নজরুল ইসলামকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর