Wednesday 22 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

এমপি নজরুলকে সাতক্ষীরায় অবাঞ্চিত ঘোষণা, আইনের আওতায় আনার দাবি

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২২ জুলাই ২০২৬ ১৫:২৬ | আপডেট: ২২ জুলাই ২০২৬ ১৫:২৯

সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা-৪ সংসদীয় আসনের (শ্যামনগর) জামায়াত দলীয় এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) বেলা ১১ টায় শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে বক্তারা এমন দাবি জানান।

এর আগে, পৌরসদরের জেসি কমপ্লেক্স চত্বরে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শত শত নারী ও পুরুষের অংশগ্রহণে একটি মিছিল পৌর সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা এ সময় হাতে ঝাড়ু ও জুতা নিয়ে নজরুল ইসলামের ছবিতে আঘাত করতে থাকে।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক সুলাইমান কবিরের সভাপতিত্বে উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজিত পথসভায় অংশগ্রহণ করেন বিক্ষুব্ধ জনতা। এসময় বক্তারা গাজী নজরুল ইসলামকে ধর্ষক আখ্যা দিয়ে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে তাকে জাতীয় সংসদ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান।

বিজ্ঞাপন

বক্তারা বলেন, ১৩ তারিখে ঘটনাটি ঘটলেও গাজী নজরুল ইসলাম কৌশলে তা ধামাচাপা দিতে চাইছিলেন। কিন্তু তার ড্রাইভার দাবি অনুযায়ী টাকা না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওগুলো ভাইরাল করে দিলে শুরুতে এআই বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠানগুলো ভিডিও চিত্রের সত্যতা নিশ্চিত করার পর নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগীরা ওই তরুণীকে বিয়ে করার নাটক সাজিয়েছেন।

পদে পদে জালিয়াতি এবং মিথ্যাচারের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগে বক্তারা নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের মাধ্যমে শরিয়ত মোতাবেক পরিচালিত হওয়ার দাবি করা রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীর আদর্শ প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী অ্যাডভোকেট আশেক এলাহী মুন্না, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আবু সাঈদ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম দুলু, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি নুরজাহান পারভীন ঝর্ণা প্রমুখ।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, একটা অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন রীতিমতো ধর্ষণের সমান অপরাধ। মহান জাতীয় সংসদের একজন প্রবীণ সদস্য হিসেবে নজরুল ইসলামের এ ঘটনা সংসদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। মহান জাতীয় সংসদের পবিত্রতা রক্ষা এবং শিশু সুরক্ষা আইনের যথাযথ প্রয়োগ প্রদর্শনের অংশ হিসেবে অবিলম্বে নজরুল ইসলামকে জাতীয় সংসদ থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি, আইনের আওতায় এনে ধর্ষণকাণ্ডের বিচার করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, ১৭ই জুন বিয়ের কথা বলে ২১ তারিখ বিকালে কাবিনের ঘটনা তার জালিয়াতি ও মিথ্যাচারকে প্রমাণ করে ঠিক আছে দিয়েছে। এমতাবস্থায় অবিলম্বে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এছাড়া, নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের মাধ্যমে নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে জামায়েত ইসলামীর অবস্থান স্পষ্ট করতে আমিরে জামায়েত ডাক্তার শফিকুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর