কক্সবাজার: জেলার কুতুবদিয়ায় টানা ভারী বৃষ্টি ও অতিরিক্ত জোয়ারের প্রভাবে সাগরভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ভাঙনে অন্তত অর্ধশতাধিক বাড়িঘর সাগরগর্ভে বিলীন হয়েছে। আরও প্রায় ৫০টি কাঁচা বাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যেগুলো যেকোনো সময় সাগরে তলিয়ে যেতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলা সদর বড়ঘোপের রোমাইপাড়া এবং আলী আকবর ডেইলের সাঁইটপাড়া এলাকায় গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। ভাঙনের কারণে বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
রোমাইপাড়ার বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী বিধবা মোস্তফা বেগম বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে আমার বসতভিটা সাগরে চলে গেছে। এখন বাঁধ দিলে কী হবে, ঘর তো আর ফিরে পাব না। ৭ জন সদস্য নিয়ে ভাতিজির বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি।’
একই গ্রামের পারেছা বেগম জানান, ৮ দিন ধরে পরিবারের ছয় সদস্যকে নিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। একই পরিস্থিতিতে রয়েছেন রুবেল, আকিয়া বেগম, রুজিনা ও কহিনুর আক্তারের পরিবারও। তাদের অভিযোগ, বাড়ির অবশিষ্ট অংশ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ প্রয়োজন হলেও তা পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে না।
সাঁইটপাড়া এলাকায় ভাঙনের তীব্রতায় স্থানীয় জামে মসজিদ এরইমধ্যে সাগরগর্ভে বিলীন হয়েছে। এলাকার ৩০টিরও বেশি বাড়ির অধিকাংশই ভেঙে গেছে। তাবালের চর ও বায়ুবিদ্যুৎ এলাকাতেও দীর্ঘদিন ধরে চলমান রয়েছে সাগরভাঙন।
জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আব্দুল হামিদ জানান, নতুন তিনটি প্যাকেজের আওতায় ১৯৬ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এছাড়া আগের একটি প্যাকেজের আরও ৫০ মিটার কাজ বাকি রয়েছে। বায়ুবিদ্যুৎ এলাকায় একটি প্যাকেজের কাজ এরইমধ্যে শেষ হয়েছে।
বড়ঘোপ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল মালেক বলেন, ‘রোমাইপাড়ায় শতাধিক বাড়ি সাগরে বিলীন হয়েছে। অনেক পরিবার অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু প্রায় ১০০ মিটার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বাদ রেখেই জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ভাঙন রোধে আরও বিস্তৃত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা জরুরি।’
কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে এবং কাজের তদারকির দায়িত্ব একজন সহকারী কমিশনারকে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘যেসব পরিবার বসতভিটা হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে, তাদের আশ্রয়ণ প্রকল্পের খালি ঘরে পুনর্বাসনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগবে।’