ভোলা: ভোলার লালমোহন উপজেলায় রাজহাঁস চুরির অভিযোগে মো. নাজিম উদ্দিন (২৫) নামের এক যুবককে আটক করে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়িয়ে ছেড়ে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কিশোরগঞ্জ গ্রামের পশ্চিম কিশোরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েকদিন ধরে ওই এলাকায় চুরি বেড়েছে। প্রায় প্রতি রাতেই কোনো না কোনো বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটছে। এ কারণে রাত নামলেই হাঁস-মুরগিসহ বাড়ির মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে আতঙ্কে থাকেন বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে ওই গ্রামের জয়নাল আরিন্দা বাড়ির বাসিন্দা মো. এমরান হোসেন রাকিবের দু’টি রাজহাঁস চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহ হলে কয়েকজন বাসিন্দা তাকে ধাওয়া করেন। পালানোর সময় হাঁসসহ তাকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে আর চুরি না করার অঙ্গীকার করান।
এরপর চুরির অভিযোগে শাস্তি হিসেবে স্থানীয় মুরব্বিরা তাকে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। পরে তাকে ওজু করিয়ে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়ানো হয়। নামাজ শেষে তাকে তওবা করিয়ে তার পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
রাজহাঁসের মালিক মো. এমরান হোসেন রাকিব বলেন, ‘রাজহাঁস দু’টি আমার এবং পরিবারের অনেক শখের। হাঁসের ঘর থেকে খুবই কৌশলে হাঁস দু’টি চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহজনকভাবে ওই যুবককে আটক করেছে প্রতিবেশীরা; পরে ডাক-চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি হাঁস দু’টি আমার। চুরির দায়ে তাকে মারধর না করে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়িয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
ফরাজগঞ্জ ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) আবু তাহের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘হাঁস চুরির অপরাধে তাকে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়ানো হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই অনেক চুরির অভিযোগ রয়েছে।’
অভিযুক্ত যুবক মো. নাজিম উদ্দিন লালমোহন পৌরসভা এলাকার নয়ানী গ্রামের পাকার মাথার বুলু হাওলাদারের বাড়ির বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, ‘থানায় বিষয়টি কেউ জানায়নি। রাতে যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে প্রতিরাতে আমাদের চারটি টিম বের হয়। আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’