যশোর: অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে বিএনপি সরকার চার মাসে ১১৭টি অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করেছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
শনিবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যায় যশোর শহরের চৌরাস্তা মোড়ে গণহত্যার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচারের দাবিতে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী অমিত বলেন, অবশিষ্ট অধ্যাদেশগুলো এখনো আইনে পরিণত না হলেও বিএনপি কখনো বলেনি যে সেগুলো বাতিল করা হবে। বরং মানবাধিকার, গুম ও হত্যাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো আরও যাচাই-বাছাই শেষে আইন হিসেবে প্রণয়ন করা হবে।
তিনি বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরাই অতীতে গুম, হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবচেয়ে বেশি শিকার হয়েছে। তাই এসব বিষয়ে প্রণীত অধ্যাদেশ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্গিত করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাদের সঙ্গে রাজনীতি করেছি, তাদের অনেককেই এখন অপরিচিত মনে হচ্ছে। তারা সংসদে এক ধরনের কথা বলেন, সংসদের বাইরে আরেক ধরনের। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের পছন্দ করেন। কিন্তু তাদের ধৈর্য নেই। তারা পাঁচ মাসেই বিএনপি সরকারকে পরিবর্তন করতে চায়। এটি কখনো সম্ভব নয়। দেশের মানুষ অনেক প্রত্যাশা ও স্বপ্ন নিয়ে তারেক রহমানকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। তাই ধর্মের কথা বলার আগে ইসলামের শিক্ষা ও ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানাই।’
সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, জনগণ যেভাবে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়েছে, একইভাবে তার সব অন্যায়ের বিচারও নিশ্চিত হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আইন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করছে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু শেখ হাসিনা নয়, তার সহযোগীদেরও আইনি প্রক্রিয়ায় বিচারের আওতায় আনা হবে। জবাবদিহিমূলক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের যে অঙ্গীকার ছিল, সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে।’
বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা করে নার্গিস বেগম বলেন, বিএনপিকে হুমকি দিয়ে লাভ নেই। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার আদর্শ নিয়েই বিএনপির জন্ম। দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী বলেন, শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়ায় যতবার নির্বাচন করেছেন, ততবারই ব্যালটে সিল মেরে নির্বাচিত হয়েছেন। এবার প্রথমবারের মতো টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়ার মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিয়েছেন এবং তারেক রহমানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা যদি দেশে ফিরে আসেন, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। তিনি যে পথেই আসবেন, সেই পথেই তাকে বরণ করা হবে।’
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমীর ফয়সালের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন খোকন এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাজেদুর রহমান সাগর।
এর আগে যশোরের আটটি উপজেলা থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন। এতে চৌরাস্তা মোড় এলাকায় নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।