নাটোর: জেলা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) অধিদফতরের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে জাল আইসিটি প্রশিক্ষণ সনদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়নে অংশগ্রহণ ছাড়াই ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে সনদ সরবরাহ করা হচ্ছে, যা চাকরির আবেদনসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে জেলায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
অভিযোগকারী বাগাতিপাড়া উপজেলার চকগোয়াশ গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম জানান, তার ছেলের গ্রাফিক্স ডিজাইন প্রশিক্ষণের সনদ সংগ্রহের জন্য নাটোর জেলা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অফিসের অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. রিপন আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রথমে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হলেও পরে দরকষাকষির মাধ্যমে ৫ হাজার টাকায় সনদ দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়।
তার দাবি, রিপনের চাহিদা অনুযায়ী তিনি বকশিশসহ মোট ৫ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করেন। পরে সনদটি যাচাই করে জানতে পারেন, সেটি জাল।
শহিদুল ইসলামের অভিযোগ, বিষয়টি জানিয়ে প্রতিবাদ করলে রিপন আলী তাকে মারধরের হুমকি দেন। তিনি বলেন, ‘আমি এই দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রিপন আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সনদ দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি সার্টিফিকেট দিয়েছি। শহিদুল অনেক অনুরোধ করেছিলেন, তাই দিয়েছি। তারা টাকাও দিয়েছে।’ তবে সনদটি জাল কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
প্রতিবেদকের উপস্থিতিতে অন-রেকর্ড সাক্ষাৎকার চলাকালে রিপন আলী অভিযোগকারীকে ফোন করেন বলেও জানা গেছে। অভিযোগকারীর দাবি, ওই ফোনে তাকে হুমকি দেওয়া হয়।
প্রকল্পভিত্তিক কর্মচারী মাহামুদ বলেন, ‘রিপন আমাদের আইসিটি অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা। আমি যেহেতু তার অধীনস্থ, তাই তার নির্দেশনা অনুযায়ী সার্টিফিকেট দিয়েছিলাম। তবে টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমি জানতাম না।’
স্থানীয় প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, নির্ধারিত প্রশিক্ষণ, উপস্থিতি ও মূল্যায়নের নিয়ম অনুসরণ না করেই কিছু ব্যক্তির হাতে সনদ পৌঁছে যাচ্ছে।
এতে প্রকৃত প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মূল্যায়ন ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একজন প্রশিক্ষণার্থী বলেন, আমরা ৬ মাস কষ্ট করে প্রশিক্ষণ নিয়ে সার্টিফিকেট অর্জন করছি। অথচ টাকার বিনিময়ে অনেকেই সনদ পাচ্ছেন বলে শুনেছি। যদি অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে যারা এ ধরনের অনিয়েমের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
নাটোর জেলার সুজনের সভাপতি খগেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি যদি জাল সনদ তৈরি বা সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তবে তা ফৌজদারি আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অভিযোগের বিষয়ে নাটোর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদফতরের প্রোগ্রামার মো. সেলিম হোসেন বলেন, ‘জাল সনদ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এবিষয়ে জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, ‘অভিযোগের সত্যতা ও অনিয়মের প্রমাণ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’